কবিতা রানী: সিনেমা বা বিনোদনের পরিভাষা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বদলে দিয়েছে অনেকাংশে।
বর্তমান সময়ে ওটিটি বা ওভার-দ্য-টপ প্ল্যাটফর্ম বিনোদন জগতে অন্যতম পরিচিত শব্দ। বলতে গেলে সিনেমা উপভোগের তরিকা আজ অন্য রকম।
এখন আর ড্রয়িংরুম কালচার নেই। টেলিভিশনের পর্দা সিনেমা এখন মুঠোফোনে চলে এসেছে। এখন আর কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যায় না
বরং টাকা দিয়ে বাৎসরিক বা মাসিক সাবস্ক্রিপশন কেনে।
ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম কি বদলে দিচ্ছে বিনোদনের চিত্র?
৩০০ জন চলচ্চিত্র দর্শক ও ১০ জন শিল্প পেশাজীবীর উপর একটি গবেষণা করা হয়। এই হবেষণার সাক্ষাৎকার থেকে দেখা যায় ,
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে চলচ্চিত্র শিল্প নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো চলচ্চিত্রের দর্শকসংখ্যা বাড়ালেও এর ফলে চলচ্চিত্র দর্শকের সংখ্যাও কমে গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলচ্চিত্র দেখার সুবিধার কারণে তরুণ প্রজন্ম ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পছন্দ করে।
২০১৯ সালের আরো এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ওটিটিতে কনটেন্ট সহজলভ্য হওয়ার কারণে সিনেমা দেখার হার কমে গেছে।
২০২৮ সালের আরো এক গবেষণা বলছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেমন নেটফ্লিক্স (www.netflix.com),অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও (www.amazon.com), হুলু এবং ডিজনি+ এর মতো সাইটগুলোর আবির্ভাব মানুষের মিডিয়া উপভোগের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।
এই গুলির সাহায্যে গ্রাহকরা কেবল বা ব্রডকাস্ট টেলিভিশন ব্যবহার না করেই বিভিন্ন ধরণের সিনেমা এবং টিভি শো দেখতে পারেন।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলি তাদের সহজলভ্যতা এবং স্বল্প খরচের কারণে খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
সিনেমায় দর্শক উপস্থিতিতে OTT প্ল্যাটফর্মের প্রভাব:
ওটিটি বিনোদনের অভ্যাস বদলে দিচ্ছে?
আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ থিয়েটার ওনার্স (ন্যাটো) এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাওয়া দর্শকের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে।
২০১৮ সালে আরো এক গবেষণা অনুসারে, ৫১% মার্কিন পরিবারে অন্তত একটি ওটিটি সাবস্ক্রিপশন আছে যার ফলে সিনেমা হলে সিনেমা দেখার চাহিদা কমেছে।
এবারে আসা যাক বাংলাদেশের কথায়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো হলো চরকি, বগ ইত্যাদি।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ, কিন্তু বিকল্প বাড়ার সাথে সাথে বিভ্রান্তিও বেড়েছে।
প্রথাগত সিনেমার ছক থেকে বেরিয়ে মানুষ আজ ভিন্নধর্মী ও বাস্তব গল্পে নির্মিত ছবি দেখার সুযোগ উপভোগ করছে।
ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে ৪৩৫টি সিনেমা হল ছিলো এবং বর্তমানে তা ৫০ এর ঘরে নেমে এসেছে।
এছাড়া, টেলিভিশন বা সিনেমার মতো ওটিটিতে সেন্সরশিপের নেই, এর ফলে নির্মাতারা তাদের গল্পকে একদম বাস্তব রূপ দিতে পারছেন।
পাশাপাশি বড় বাজেট এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণশৈলীর কারণে ওটিটির সিরিজ বা সিনেমাগুলোর ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি হচ্ছে দারুণ।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিনোদনকে একটি নতুন রুপ দিয়েছে।
চাইলেই একজন দর্শক ঘরের কোনায় বসেই যেকোন ভাষার ড্রামা যেমন: কোরিয়ান ড্রামা, স্প্যানিশ ক্রাইম থ্রিলার (যেমন- মানি হাইস্ট) কিংবা ভারতীয় তা খুব সহজে দেখতে পারে।
সুতরাং, বলতে পারাই যায় যে, সিনেমা বা বিনোদন জগতে ওটিটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে যার প্রযোজনীয়তা অসীম।
প্রেসপয়েন্টবিডি/প্রযুক্তি/বিনোদন/
আরো পড়ুন...
https://presspointbd.com/wp-admin/post.php?post=1205&action=edit













