বিনোদন ডেক্স: কফি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয় পানীয়র মধ্যে অন্যতম।
ম্যারোনাইট প্রশাসক এবং কফি বিষয়ক প্রথম মুদ্রিত বইয়ের লেখক আন্তোইন ফস্তাস নাইরন সর্বপ্রথম ৯ম শতাব্দীতে কফির উৎপত্তি নিয়ে কথা বলেন।
কফি পানের ইতিহাস অস্পষ্ট হলেও কফি পান বা কফি গাছ সম্পর্কিত জ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় ১৫ শতকের মাঝামাঝি ইয়েমেনের আহমেদ আল-গাফফারের বিবরণে দেখলে ১৬ শতকের বিখ্যাত ইসলামিক পন্ডিত ইবনে হাজার আল-হায়তামি
তার লেখায় আফ্রিকার শৃঙ্গে অবস্থিত জেইলা অঞ্চলের একটি গাছ থেকে কাহওয়া নামক একটি পানীয় তৈরির কথা উল্লেখ করেছিলেন যা পরবর্তীতে কফির মর্যাদা পায়।
কফির সুস্বাস্থ্যগত দিক:
বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে সকালের নাস্তা প্রায় অসম্পূর্ণ থাকে যদি তাতে কফির স্বাদ যুক্ত না করা হয়।
টেক্সাস ইউনিভার্সিটি দ্বারা পরিচালিত এবং 'নিউট্রিয়েন্টস' জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে,
কফিতে একটি জৈবিকে উপাদান রয়েছে, যা কফি এবং স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের মধ্যে সংযোগ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, তৈরি করা কফিতে থাকা যৌগগুলো NR4A1 নামক একটি রিসেপ্টরকে সক্রিয় করতে পারে, যা মানসিক চাপ মোকাবেলা, প্রদাহ, বিপাক এবং শরীরের টিস্যু মেরামতের সাথে জড়িত।
নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন কিছু রোগ যেমন: আলঝেইমার রোগ এবং হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে এমন সব উপাদান রয়েছে কফিতে।
কফিতে থাকা ক্যাফেইন মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য সক্রিয় উপাদানও রয়েছে যা শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে এবং রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।

ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরে গ্লুকোজ (বা চিনি) আরও ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে কফির অবদান অপরিসীম বলছে গবেষণা।
যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ও হার্ট ফেইলিওর হওয়ার ঝুঁকিও কমে আসে প্রায় ৯৬ শতাংশ।
গবেষকরা দেখেছেন, কফিতে থাকা ক্যাফেইক অ্যাসিড এবং অন্যান্য পলিফেনলিক যৌগসহ একাধিক যৌগ NR4A1-এর সাথে সংযুক্ত হয় এবং
এর কার্যকারিতাকে ঢেরগুণ বাড়িয়ে দেয় ফলে কোষের ক্ষতি হ্রাস হয় এবং ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়।
গবেষকদের বিবৃতিতে দেখা যায়, শরীরের কোনো টিস্যুর ক্ষতিগ্রস্থ হলে কফিতে থাকা NR4A1 সেই ক্ষতি কমাতে সাড়া দেয়।
বয়সের ওপর কফির প্রভাব:
বয়সের ছাপ কমাতে কফি সরাসরি কাজ করেনা।
গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করার পরিবর্তে জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করেছে।
ক্যাফেইন সম্ভবত মূল কারণ নয় বরং কফিতে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান অন্যান্য যৌগগুলো বেশি সক্রিয় রয়েছে।
কফির স্বাস্থ্যগত উপকারিতার অন্তত একটি অংশ এই রিসেপ্টরের সাথে সংযুক্ত হয়ে এবং এটিকে সক্রিয় করার মাধ্যমে আসতে পারে।
অন্যদিকে কিছু গবেষণা বলছে, কফিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন বয়সের ছাপ বা বলিরেখা কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর।
এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এবং কোষের বার্ধক্য রোধ করতে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করে থাকে।
কফিতে রয়েছে পলিফেনল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান যা ত্বকের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল ধ্বংস করে এবং
যা পরিবেশ দূষণ ও রোদের কারণে ত্বকে বয়সের ছাপ (বলিরেখা) পড়ার গতি ধীর করে দেয়।
এছাড়া, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে কোলাজিন উৎপাদনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সুতরাং, তারুণ্য ও উজ্বল ত্বক পেতে কফি হতে পারে এক অনন্য উৎস।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/স্বাস্থ্য













