জয়শ্রী রানী: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কিছু আন্তঃক্রিয়ামূলক তথ্য প্রযুক্তিকে বোঝায়,
যেগুলি তথ্য, ধারণা, আগ্রহ ও অন্যান্য ধরনের অভিব্যক্তি আন্তর্জালভিত্তিক (ইন্টারনেটভিত্তিক) অসদ সম্প্রদায় (ভার্চুয়াল কমিউনিটি) ও জালব্যবস্থাগুলিতে বিষয়বস্তু সৃষ্টি ও ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুবিধা প্রদান করে।
[১][২] বর্তমানে লভ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেবার বৈচিত্র্যের কারণে এগুলির সংজ্ঞা প্রদান করা দুরূহ হলেও,[৩][৪] এগুলির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে (সূত্র: উইকিপিডিয়া)।
যেমন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি বিশেষ তার বিহীন মাধ্যম দ্বারা পরিচালিত হয়।
ফেসবুক (Facebook), ইউটিউব (YouTube), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) হলো বর্তমান সময়ের সর্বাধিক ব্যবহারিত মাধ্যমগুলির মধ্যে অন্যতম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও খেলাধুলা:
বর্তমান যুগকে আধুনিক যুগ না বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ বলা যেতে পারে।
মানবজীবনের এমন কোন অংশ নেই যা তথ্য-প্রযুক্তি তথা সামাজিক মাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না।
খেলাধুলার জগতকে বহু অংশে বদলে দিয়েছে এই মাধ্যম। পূর্বে যেমন খেলা দেখার একমাত্র মাধ্যম ছিল টেলিভিশন বা স্টেডিয়াম ফলে সময় স্বল্পতা, দূরত্ব, আর্থিক অবস্থার কারণে অনেকেই পছন্দের খেলা দেখা নিয়ে সংশয়ে ভূগতেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে খেলাধুলা টেলিভিশন ও স্টেডিয়াম থেকে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।
এখন একজন ক্রীড়াপ্রেমী চাইলেই মুহুর্তের মধ্যে খেলার সকল আপডেট পেয়ে থাকে।
যেমন: ক্রিকেটের অন্যতন জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট ’আইপিএলে’ প্রায় ১০টা দলের ৭৪টা ম্যাচ হয়েছে।
অনেকের দ্বারা পুরো ৭৪টা ম্যাচ টিভিতে দেখার সুযোগ না হলেও সামাজিক মাধ্যমে তা সহজে দেখা গিয়েছে।
কোন দল কত রান করেছে বা কোন দল জয়ী হয়েছে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যেতে মুহূর্ত সময় লাগতো।

ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমের কেস স্টাডি মতে, ২০২৪ সালে, ৬২০ মিলিয়ন দর্শক জিওহটস্টারে আইপিএল স্ট্রিম করেছিলেন, যা ৩৫০ বিলিয়ন মিনিটের কন্টেন্ট কনজিউমমেন্ট তৈরি করে।
সিএসকে এবং এমআই-এর মতো আইপিএল দলগুলো শুধু স্কোরই পোস্ট করে না, তারা মিম, পর্দার পেছনের ভিডিও এবং ইন্টারেক্টিভ রিল তৈরি করে যা বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ড করে।
আইপিএল ২০২৫-এর ফাইনাল রেকর্ড সৃষ্টিকারী ১৬৯ মিলিয়ন টেলিভিশন দর্শককে আকর্ষণ করেছিল,
যেখানে জিওহটস্টারে দর্শকের সংখ্যা বিস্ময়করভাবে ৫৭৮ মিলিয়ন (৫৭.৮ কোটি) স্ট্রিমে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে, ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে ইতোমধ্যে সারা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েগেছে।
সামাজিক মাধ্যমে (ফেসবুক ও ইস্টাগ্রাম) ফুটবল প্রেমীদের নিজের পছন্দের দল নিয়ে উত্তেজনার অভাব নেই।
এছাড়াও ফিফার সকল আপডেট পেতে প্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে প্রথম স্থানে রাখে।
ডেলয়েট-গুগলের “থিঙ্ক স্পোর্টস” রিপোর্ট (২০২৪) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ক্রীড়া বাজার ১৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর
এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম।
সম্প্রচার থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডিং, প্রায় সবখানেই ডিজিটাল-ফার্স্ট কৌশলগুলো অভূতপূর্ব মাত্রায় ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, বিপণন এবং ভক্তদের সম্পৃক্ততাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বদলে সামাজিক মাধ্যম:
আগেকার সময়ে খেলা উপভোগের মাধ্যম সীমিত হওয়ায় ক্রিড়াপ্রেমীরা তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের শুধু মাঠেই দেখতে পেতেন।
কিন্ত এখন খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধনীর কাজ করছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম যা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ।
অন্যদিকে, একই বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ হাসান বিজয় বলছেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি কিংবা মহেন্দ্র সিং ধোনী, পছন্দের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন, অনুশীলনের ছবি ও চিন্তাভাবনা ভক্তদের সাথে সরাসরি শেয়ার করেন। এর ফলে খেলোয়াড় ও ভক্তদের মাঝে দূরত্ব অনেক কমে গেছে।
ডেলয়েট-গুগল সমীক্ষা অনুযায়ী, জেন জি প্রজন্মের ৯৩% ক্রীড়া প্রেমী ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট উপভোগ করেন
এবং তাদের অনেকেই সরাসরি খেলা দেখার চেয়ে হাইলাইটস, মিম ও ছোট ক্লিপ দেখতে ২০% বেশি সময় ব্যয় করেন।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ ও ক্রীড়াঙ্গন যোগের ফলে সারাবিশ্বে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ভারতীয় এক প্রতিবেদন মোতাবেক, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় ক্রীড়া সেক্টরে ১০.৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থান তৈরি হবে
যার একটি বড় অংশ হবে ডিজিটাল মিডিয়া, ফ্যান এনগেজমেন্ট এবং অ্যানালিটিক্স ক্ষেত্রে।
সুতরাং বলা যেতেই পারে যে, খেলা জগতের মোড় ঘুড়িতে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবদান অনস্বীকার্য। এবং খেলাপ্রেমীদের জন্য বিনোদনের রাস্তা আরো প্রসারিত হয়েছে।



















