সাংবাদিকতায় এআই-এর প্রভাব?

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুন ১৬, ২০২৬

সাংবাদিকতায় এআই

ডেস্ক রিপোর্ট: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই হলো এমন এক ধরণের কম্পিউটার এ্যাল্গোরিদম যা সাধারণত মানব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এটি এমন এক কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যা মানব বুদ্ধিমত্তার মতো  শেখা, বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ, সমস্যা সমাধান, প্রত্যক্ষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইত্যাদি করে থাকে।

সহজভাবে বলতে গেলে, এআই এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কম্পিউটার বা মেশিন মানুষের মতো চিন্তা করা, শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সমস্যা সমাধান করতে পারে।

এআই মূলত তিন প্রক্রিয়ায় কাজ করে থাকে: তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ ও ফলাফল প্রদান

সাংবাদিকতায় এআই-এর প্রভাব:

সাংবাদিকতা বলতে আমরা সারারণত বুঝি কোন নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তথ্য পেীছানো।

বর্তমান যুগে তথ্য গ্রহণ করে মানুষের কাছে পেীছে দেয়া অনেকাংশে সহজ হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে।

সাংবাদিকতায় এআই এর ব্যাপক প্রভাব দেখা দেয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত এর প্রভার অনস্বীকার্য।

সাংবাদিকতায় এআই প্রভাব দুভাবে দেখানো যায়: ১. ইতিবাচ প্রভাব ২. নেতিবাচক প্রভাব

ইতিবাচ প্রভাব:

বর্তমানে গণমাধ্যমসহ প্রায় সবক্ষেত্রে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

দ্রত সংবাদ লিখন: ডেটা-ভিত্তিক সংবাদ অর্থাৎ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, খেলার স্কোর, শেয়ার বাজার ইত্যাদি

বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ লেখাকে এআই সহজ করে তুলেছে।

সময় বাঁচিয়ে তাক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন সম্ভব হয়েছে।

গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ: এআই একই সাথে অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা চর্চা সহজ করেছে। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে তথ্য বিশ্লেষণ করতে এআই সাহায্য করছে।

যে কাজ এআই করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড নেয় তা করতে মানুষের কমপক্ষে সপ্তাহ পার হয়ে যেতো।

এছাড়া, বিভিন্ন ভাষায় তথ্য সংগ্রহ করে তা দ্রুত অনুবাদ করা সম্ভব হয়ে উঠেছে।

নেতিবাচ প্রভাব:

সাংবাদিকতায় এআই একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিনতা হয়েছে।

এআই কতটা সক্ষম: সাম্প্রতিক ইতালির পেরুগা শহরে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিকতা উৎসবে সাংবাদিকতায় এআই নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে আসে।

যেমন, নিউজরুমে সাংবাদিকেরা যে কাজ করেন (অডিও ফাইলের প্রতিলিপি তৈরি, অনুবাদ বা টেক্সট সংক্ষেপ) এই কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করতে কতটুকু সক্ষম।

ভুয়া খবর: তথ্য প্রযুক্তির আধিপত্যের কারণে বর্তমানে ভুয়া সংবাদ বা মিথ্য তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়।

বরং এআই ব্যবহার করে কিছু মানুষ ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

ফলে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকির মুখ পড়ে।

চাকরির বাজারে প্রভাব: এক গবেষণা অনুসারে ২০২৪ সাথে এক তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান নিউজরুমে এআই এর ব্যবহার শুরু করেছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে জার্মানির এক্সেল স্প্রিঙ্গার গ্রুপ সাংবাদিকের বেশ কিছু কাজ এখন এআই টুল করতে সক্ষম ফলে তারা কর্মী ছাঁটাই করেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম স্কুলের অধ্যাপক মিলি বেল বলেন, নতুন প্রযুক্তি ফলে গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে বাইরের একটি চাপ কাজ করছে আর তা হচ্ছে দ্রুত উঠে পড়ো, ট্রেন মিস করো না।

এছাড়া, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বা আবেগের কথা চিন্তা করলে দেখা যায় এআই তথ্য সাজাতে পারলেও সেখানে মানুষের মতো আবেগ তৈরি করতে পারেনা।

একজন সাংবাদিক একটি ধর্ষণ বা হত্যাকান্ডের সংবাদ যতটা সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতি দিয়ে লিখবে এআই তা করতে ব্যর্থ হবে।

এআই হয়তো একজন সাংবাদিকের সহায়ক টুল (Assistant) হিসেবে কাজ করতে পারে কিন্তু কখনই একজন দক্ষ সাংবাদিকের বিকল্প হতে পারে না,

তবে এটি সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক হতে পারে অবশ্য।

সাংবাদিকতাকে মানুষ এবং এআই এর যেীথ সমন্বয় করতে পারলে তা অবশ্যই সাংবাদিকতার পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কিন্তু শুধুমাত্র এআই নির্ভর সাংবাদিকতা করতে গেলে হয়তো সাংবাদিকতার আসল দায়িত্ব বাধাগ্রস্থ হবে।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/শিক্ষা/প্রযুক্তি