৩৪ পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর

Ahmed Siam

প্রকাশ :অক্টোবর ১৫, ২০২৬

৩৪ পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সারা বছর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠন দুটির নেতারা এসব দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন) বলেন, সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ফরিদপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরি এবং সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। নওগাঁয় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মচারী পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অনেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বক্তব্যে দাবি করা হয়। তবে নেতারা বলেন, শুধু পূজার পাঁচ দিনের নিরাপত্তা নয়, সংখ্যালঘুদের জন্য সারা বছর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করাও জরুরি।

সভায় জানানো হয়, পূজা নির্বিঘ্নে আয়োজন করতে প্রশাসন সহযোগিতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২২ দফা নির্দেশনাও পাঠিয়েছে।

সভায় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের জমির মালিকানা ও দখল ফিরিয়ে দেওয়া।

এ ছাড়া জনসংখ্যার অনুপাতে সরকার, সংসদ ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন ও বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর এবং দুর্গাপূজার অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়া বিল ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।