বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড টেলিফোন’ (লাল টেলিফোন) সংযোগের তামার তার চুরি।
ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে গত সোমবার (১ জুন) সচিবালয় খুললে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড টেলিফোন’ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) প্রকৌশলীরা এসে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগটি পুনরায় সচল করেন।
এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সচিবালয়ের এক আউটসোর্সিং
কর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
ঘটনার সাথে সন্দেহভাজন ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৬) এবং চুরি হওয়া তারের ক্রেতা ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।
উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে (শুক্রবার) ছুটির দিনে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে কৌশলে কপার কেব্ল (তামার তার) কেটে চুরি করেন রঞ্জন চন্দ্র।
পরে ১ জুন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের তার বিক্রি করে দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটিটিসি।
এসময় তিনি তার চুরির অপরাধ স্বীকার করেন।
রঞ্জন চন্দ্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হল সংলগ্ন এলাকা থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে চকবাজারের হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারি গুদাম থেকে চুরি যাওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র জড়িত থাকতে পারে।
এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।













