নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেছিলেন বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তবে সেই আলোচনার পরও তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল, তা এবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি।
বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় একান্তে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল তাঁর।
সাক্ষাৎকারে ইশরাক জানান, ঘটনার দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সাক্ষাতের সময় দেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়। একপর্যায়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় হলে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে যোগ দেন। এ সময় তাঁকে পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
পরে ইশরাককেও মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডাকা হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের মধ্যে আবার আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় ভবিষ্যতে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিষয়ে ইশরাক বলেন, অভিযানের সময় একদল মাদকসেবী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে। এর আগেও তাদের কাছ থেকে পাইপগান ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই দিনও অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে এ ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর দ্রুত তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।
পদত্যাগের নির্দেশে বিএনপির প্রতি কোনো অসন্তোষ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল কখনোই চাইবে না যে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে পদত্যাগ করতে হোক।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের জন্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাকে দায়ী করেছেন ইশরাক। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে। এর উদ্দেশ্য তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করা।
ইশরাক আরও জানান, পদত্যাগের পর বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ভবিষ্যতে নির্বাচন করার বিষয়ে ইশরাক বলেন, ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাঁকে মেয়র পদে দেখতে চেয়েছেন। তাঁদের সেই প্রত্যাশা এখনো রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ইশরাকের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং পদত্যাগের নির্দেশের পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














