মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, আর এবার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা। চলতি বছর এই একটি উপজেলাতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন, যার মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডের পরই সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা কর্ণফুলী উপজেলায় ২৪১ জন। এছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় ১২৬ জন এবং বাঁশখালীতে ১২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৩ দিনেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ জন, যেখানে গত বছর ২০২৫ সালের পুরো সেপ্টেম্বর মাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৯৩৫ জন। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল আরও বেশি ৩ হাজার ৮৯২ জন, আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৯০৭ জন। উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি মাসেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে চলতি বছরের মোট ১৮ জনের মৃত্যুর মধ্যে ১৩ জনই মারা গেছেন এই সেপ্টেম্বরে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ জনে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৯৭ জন, বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৬৬৮ জন, আর অন্যান্য জেলা থেকে এসে চট্টগ্রামে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৩০। এই সময়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের।
লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৮৭৩ জন, নারী ১ হাজার ৭৪ জন এবং শিশু ৮৪৮ জন। তবে মৃত্যুর হারে এগিয়ে নারীরা ১৮ জনের মধ্যে ৯ জনই নারী, শিশু ৫ জন এবং পুরুষ ৪ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে আরও ১১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ২১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ জন ভর্তি আছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে স্বস্তির খবর হলো, চলতি বছর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৫৮৩ জন।













