মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাঠে নামার ঘটনাকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখছেন না জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তাঁর মতে, ইশরাক হয়তো ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই কাজটি করেছেন। তবে একজন জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা কিংবা কাউকে অস্ত্র তাক করার বিষয়টি অন্যদের জন্য ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সাবেক সাথি-সদস্য সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “তাঁর (ইশরাক) কাজকে কেউ নেগেটিভ (নেতিবাচক) বলার সুযোগ নেই।” তবে তাঁর মতে, প্রকাশ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র বহন করা বা তা দিয়ে কাউকে লক্ষ্য করার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই।”
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, কেউ এ ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে অসৎ উদ্দেশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করতে পারে। তাঁর মতে, ইশরাকের উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত আমির বলেন, এটি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন বলে ইশরাকের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাক নিজেই জানিয়েছেন, অভিযানের সময় সেখানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলেই ভালো হতো। পুলিশ কী ভূমিকা পালন করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিছে।”
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, বিএনপি ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযানে কোনো ভুল করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাই মাসে রক্ত দেননি। জনগণ লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। প্রতিটি অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ ও মুহাম্মদ শাহজাহানসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














