ইতিহাসের পাতায় পহেলা সেপ্টেম্বর

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় পহেলা সেপ্টেম্বর

নাবিলা কবির: পহেলা সেপ্টেম্বর বিশ্ব রাজনীতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক দিন।

এই দিনে মানবজাতি যেমন দেখেছে ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা, তেমনই প্রত্যক্ষ করেছে জাতীয় জাগরণ,

সৃষ্টিশীলতার উত্থান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পদচারণা।

ঘটনাবহুল ইতিহাসের পাতায়

১৯৭০ – ফ্রঁসোয়া মোরিয়াক: ফরাসি ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যে নোবেলজয়ী লেখক, যিনি বিশ্ব সাহিত্যে গভীর মানবচরিত্রের বিশ্লেষণ রেখে গেছেন।

ইতিহাস অতীতকে ধারণ করে বর্তমানকে নির্মাণ করে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ দেয়।

যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত যেমন মানবজাতিকে সতর্ক করে, তেমনি মহৎ ব্যক্তিত্বের আদর্শ পথচলার প্রেরণা যোগায়।

পহেলা সেপ্টেম্বরের এই স্মৃতি ও অর্জনগুলো মানব চেতনার সেই শাশ্বত আলোকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৩৯ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা: পহেলা সেপ্টেম্বর মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটির সূচনা করে।

এদিন ভোরে নাৎসি জার্মানি অতর্কিতে পোল্যান্ড আক্রমণ করলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

যা দিয়ে বদলে গিয়েছিল পৃথিবীর ভূরাজনীতির সমীকরণ।

১৯০৫ – বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা: ব্রিটিশ রাজশক্তি প্রশাসনিক সংস্কারের নামে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করে এই দিনে।

এই ঘটনার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের তীব্রতা ঘটেছিল।

১৯২৩ – জাপানে বিধ্বংসী গ্রেট কান্টো ভূমিকম্প: জাপানের টোকিও ও ইয়োকোহামা অঞ্চলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী এক ভূমিকম্প।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ও পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

১৯৬১ – জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) প্রথম শীর্ষ সম্মেলন: যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেডে শুরু হয়েছিল জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোর ঐতিহাসিক প্রথম সম্মেলন, যা স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাল সময়ে তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীন কূটনীতিতে এক মাইলফলক স্থাপন করে।

১৯৭৮ – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা: বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

এবং দেশের রাজনীতিতে দ্বিদলীয় কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তোলে।

১৯৮৫ – টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার: আটলান্টিক মহাসাগরের গভীর তলদেশে নিখোঁজ থাকার ৭৩ বছর পর

এই দিনে আবিষ্কৃত হয় ঐতিহাসিক বিলাসবহুল জাহাজ আরএমএস টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ।

১৯৯১ – উজবেকিস্তানের স্বাধীনতা: সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পটভূমিতে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান এদিন নিজেদের পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।
যাদের জন্ম আলো ছড়িয়েছে

১৯১৮ – জেনারেল এম এ জি ওসমানী: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।

তাঁর দূরদর্শী সামরিক নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর ভর করেই ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে গঠিত হয়েছিল নিয়মিত মুক্তিবাহিনী ও সশস্ত্র প্রতিরোধ।

১৮৭৭ – ফ্রান্সিস উইলিয়াম অ্যাস্টন: নোবেলজয়ী ব্রিটিশ রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি ভর বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র (Mass Spectrograph) উদ্ভাবন করে আইসোটোপ গবেষণায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

১৯১৪ – মৈত্রেয়ী দেবী: বিশিষ্ট সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজসেবী, যাঁর লেখায় মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো ফুটে উঠেছে।

১৯৩৫ – মুস্তাফা মনোয়ার: বাংলাদেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, পাপেট নির্মাতা এবং নাট্যজন।

শিল্প ও চারুকলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

১৯৬৫ – নচিকেতা চক্রবর্তী: আধুনিক বাংলা জীবনমুখী গানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ও সুরকার, যাঁর সৃষ্টি আজও প্রজন্মের সামাজিক চেতনাকে নাড়া দেয়।
যাদের প্রয়াণে স্মৃতি অমলিন

৮৭০ – ইমাম বুখারী (রহ.): হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলক, যাঁর ‘সহীহ আল-বুখারী’ ইসলামী জ্ঞানের জগতে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

১৭১৫ – রাজা চতুর্দশ লুই: ফ্রান্সের প্রতাপশালী শাসক, যিনি ‘সান কিং’ (Sun King) নামে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ ৭২ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে এদিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৩০ – বিপ্লবী জীবন ঘোষাল (মাখনলাল): চট্টগ্রামের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম অকুতোভয় তরুণ যোদ্ধা, যিনি জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধের পর চন্দননগরে পুলিশের সাথে সম্মুখ লড়াইয়ে আত্মাহুতি দেন।

আরো পড়ুন...

জাতীয় নজরুল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা লাখাইয়ে উদ্বোধন