দেশকে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই

Ahmed Siam

প্রকাশ :অক্টোবর ৩১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
বাংলাদেশের ভৌগোলিক সংযোগ বা কানেক্টিভিটির অজুহাতে দেশকে অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকার পার পাবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়াগামী এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, চার দিনের সফরে যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং সেখান থেকে কী অর্জন হয়েছে, তা জনগণকে জানাতে হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো বিষয় আড়াল করা হচ্ছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি এখন দেখা যাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ দায় এড়াতে পারবে না।

বিরোধী দলের সাত দফা দাবির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর মূল দাবি গণভোটের রায় কার্যকর করা। তাঁর ভাষ্য, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয়টি দাবির প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। রায় কার্যকর হলে চাঁদাবাজ, দখলদার, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ঠেকানো যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও সংসদে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে উপহাস করা হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের দায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর বর্তাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশের সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার জনগণের রায়কে অসম্মান করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, সরকার সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় লোক নিয়োগ দিতে চায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে এমন নিয়োগ দেওয়া কঠিন হবে—এ কারণেই সরকার গণভোটের রায় কার্যকর করছে না বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বহরটির। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহের মধ্য দিয়ে যাত্রা করবে গাড়িবহর। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা হবে। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।