তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ, ঘরে তিন শিশু সন্তান। সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ইয়াসমিন আক্তার। প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে না থাকা এই নারীর জীবনসংগ্রামের গল্প শুনে পাশে দাঁড়ালেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

*অটো নিয়েই গণশুনানিতে *
বুধবার জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে হাজির হন ইয়াসমিন। স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তার সংগ্রামের কথা জানতে পারেন ডিসি।

গণশুনানিতে ইয়াসমিন বলেন, স্বামী মো. শাহিনের চিকিৎসা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনার খরচ একা মেটানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও অসহায় হয়ে বসে না থেকে তিনি নিজেই অটো চালাচ্ছেন।

ইয়াসমিনের কথা শুনে তার মানসিক শক্তির প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তুমি কারও কাছে হাত পাতোনি, কারও কাছে ছোট হওনি। তুমি নিজেই একটা অটো নিয়েছো, অটো নিয়ে পরিশ্রম করে চলছো এটা খুবই ভালো।’

সন্তানদের পড়াশোনা কোনোভাবেই বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়ে ইয়াসমিনের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে তার অটোরিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন ডিসি।

*তাৎক্ষণিক সহায়তা *
ইয়াসমিনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও কিছু উপহার তুলে দেন। সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ারও উৎসাহ দেন তিনি।

সহায়তা পেয়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলে আছে। তিনটা ছেলেকে নিয়ে খাচ্ছি। উনি আমাকে চাল দিয়েছেন, কিছু টাকা-পয়সাও দিয়েছেন।’

*গণশুনানিতে উঠে আসে আরও ২০ জনের কষ্টের কথা *
এদিনের গণশুনানিতে ইয়াসমিনের মতো আরও অনেক অসহায় মানুষ তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে পারছেন না, কারও সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস লাগে। কেউ প্যারালাইসিসে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে পড়াশোনা চালাতে পারছেন না।

তাদের কথা শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক। এদিন অসুস্থ ও অসহায় ১০ জন এবং একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একজনকে খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ওমর ফারুককে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে সহায়তা দেওয়া হয়। কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত মো. নাজমুল হুদা, কিডনি রোগী ইফফাত জাহান ইশা, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত আবু তাহের ও আজিজুল হকসহ আরও অনেকে সহায়তা পান।

২১ জনের অভিযোগ শুনলেন ডিসি
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১টায় শুরু হওয়া গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন। চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জমিজমা ও সম্পত্তি জবরদখলসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তারা তুলে ধরেন। অনলাইনে একজন প্রবাসীও যুক্ত হয়ে অভিযোগ জানান।

অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একটি আবেদন গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী সিদ্ধান্ত হলো এবং তার ফলাফল কীসেবাপ্রত্যাশী যেন সেটি জানতে পারেন, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।’

কাগজের নথিতে শুধু নাম-ঠিকানা থাকলেও, গণশুনানিতে উঠে আসে বাস্তব জীবনের গল্পগুলো। আর সেই গল্পের মধ্যেই ইয়াসমিনের মতো সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন জেলা প্রশাসন।

আরো পড়ুন...

বাঁধনের ওপর হামলা: ইতালীয় পুলিশের তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?

ইরানের হামলায় জর্ডানে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ মার্কিন যুদ্ধবিমান