সেতু মাহমুদ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত থামাতে ইরানের দেওয়া সাত দিনের পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জানান, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এরপর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে শুধু যুদ্ধবিরতিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়ও রয়েছে। পরিকল্পনার শেষ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটির নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা অবশ্য এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন কোনো চুক্তিতে দ্রুত পৌঁছাতে চাইছে না।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও একই সঙ্গে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চুক্তি না হলে আরও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কূটনৈতিক পথেই সংকটের সমাধান সম্ভব।
ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা তৈরি হলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক চাপ কমানোর প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
বর্তমানে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।














