সৈয়দ আতিক ফয়সাল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এছাড়াও ঘটনার সাথে জড়িত ৩ ছাত্রদল নেতাকেও বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১২টায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঘটনার পেছনে আরিফুল ইসলাম মূলত উস্কানিদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। তদন্ত কমিটির হাতে তার বেশ কিছু স্ট্যাটাস ও পোস্টের প্রমাণ এসেছে। ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন, যেটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে সংঘাত ও হামলার ঘটনা ঘটে।’
জানা যায়, গত রবিবার বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারীরা। রাকসুর সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে অবস্থান নেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ওই সময় হাসিবুল ইসলাম ফেসবুকে হাতে হকি স্টিক নিয়ে ছবি পোস্ট করে নিজের অবস্থানের জানান দেন।
এর জেরে জিয়া হলের জিএস আরিফুল ইসলাম 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ' নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের পরপরই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে আরিফুলকে মারার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাত সাড়ে আটটার দিকে সশস্ত্র নেতা-কর্মীরা হলের গেটে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে গেলে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় আহসান হাবিব, হাসিবুল ইসলাম ও বিশাল চক্রবর্তীসহ অন্তত ১০ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
তদন্ত কমিটির সুপারিশে জিয়া হলের জিএস আরিফুল ইসলাম ছাড়াও সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ পাওয়া অন্য তিনজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী।অন্যদিকে রাকসুর সহকারী সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, কর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছে কমিটি।
এছাড়া একই ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম এবং যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের এমন সুপারিশের সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান অভিযুক্ত জিএস আরিফুল ইসলাম।পোস্টে তিনি লেখেন, 'ফেসবুকে একটা পোস্ট করাই ছিল আমার অপরাধ! ছাত্রদল সারাদিন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয় এবং সালাউদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তার কাউন্টার হিসেবে আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম।
'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরিফুল আরও লেখেন, 'তার জন্য তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। আমাকে না পেয়ে আমার রুম ভাঙচুর করা হয় এবং নির্মমভাবে সাংবাদিকদের পেটানো হয়। ওই দিন যদি আমাকে পেত, তাহলে বেঁচে থাকতাম কি না, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার ছাত্রত্ব বাতিল করল! এটাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারব্যবস্থা, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা।'














