জয়শ্রী রানী:
নবপত্রিকা স্নান ও পূজার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে দুর্গোৎসব।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমী। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর আজ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেবী দুর্গার আরাধনা, নবপত্রিকা স্নান ও পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তদের অংশগ্রহণে এগিয়ে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
এ বছর তিথির সময়ের কারণে মহাসপ্তমীর পূজা ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিন পালিত হচ্ছে। শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পূজার মূল পর্ব চলবে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত।
মহাসপ্তমীর ধর্মীয় তাৎপর্যদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এদিন নবপত্রিকা স্নান ও পূজা করা হয়। বিভিন্ন উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয় এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দেবীর পূজায় তা ব্যবহার করা হয়। এই আচারকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ আয়োজন থাকে।সকালে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনেক মণ্ডপে ভক্তরা দেবীর সামনে প্রার্থনা করেন। দিনভর পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় সংগীত এবং বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের সমাগমদুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং প্রতিমা দর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজামণ্ডপে আসছেন ভক্তরা। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এবারের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজনের তথ্য জানিয়েছে বাসস। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মণ্ডপগুলোতে পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সামনে অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীমহাসপ্তমীর পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী এবং মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন।
সম্প্রীতি ও নিরাপদ উৎসবের প্রত্যাশাদুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাঙালির সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনমেলারও অংশ। উৎসবের দিনগুলোতে পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে পারে। তাই মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে উৎসবটি সবার জন্য আনন্দময় হোক এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।














