আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা: পুলিশ সুপার

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা: পুলিশ সুপার

নুরুল হক, কুবি প্রতিনিধি: আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) নির্জন স্থানে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের এই বিবরণ তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার মূল রহস্য ইতিমধ্যে উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তুহিনকে মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অধিকতর যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মূল আসামি তুহিন স্বীকার করেছে, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় তুহিনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল ফাহাদ ও কামরুল। জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আইফোনটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা আইফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন হিসেবে অপ্রতিমের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা যাওয়া তুহিনকে প্রথমে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জড়িতদের নির্দেশনা অনুযায়ী তুহিনের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত সেই আইফোনটি।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছি এবং মূল আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কোনো কারণ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে অপ্রতিমের সখ্য ও নিয়মিত চলাফেরা ছিল বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে, যার জেরে শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

আরো পড়ুন...

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দিল্লি-ঢাকা আলোচনা
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ