চট্টগ্রামে সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা লুট

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১৮, ২০২৬

চট্টগ্রামে সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা লুট

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার মো. আবুল হোসাইন। এ ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে জোর করে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে জিম্মি করার অভিযোগ

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার বিকেলে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ধরে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে মারধর করার পর পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন সড়কে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং আরও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিকাশ থেকে নেওয়া হয় ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর আদায় করা হয়। এরপর বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত লুট হওয়া টাকা উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

জোর করে ভিডিও ধারণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সাংবাদিক আবুল হোসাইনের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে হাতে কনডমের প্যাকেট ধরিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে সেসব বক্তব্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি কাউকে জানালে কিংবা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় মামলা করেন বলে জানিয়েছেন আবুল হোসাইন।

দুইজন গ্রেপ্তার, অন্যদের শনাক্তে তদন্ত

হালিশহর থানার পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন বিশ্লেষণ করে অভিযান চালানো হয়। এতে মামলার এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিফকে হালিশহর থানার বৌ-বাজার এলাকা থেকে এবং ওই কিশোরকে বড়পুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় হালিশহর থানায় ১৫ অক্টোবর মামলা করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে।

ঘটনার অভিযোগগুলো এখন তদন্তাধীন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।

আরো পড়ুন...

সাজেকে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, খুলেছে ভ্রমণের পথ