অতিন বিশ্বাস: আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
জানা যায়, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্যও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তবে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ছিল দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। সম্মেলনের কয়েক দিন আগ পর্যন্তও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একাধিকবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ কিংবা তাঁর পরিবর্তে কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হবে কি না, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন, যার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
অবশেষে বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লি যাচ্ছেন না। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
সম্মেলনে যোগ না দেয়ার কারণ:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত মূলত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। তার ভাষায়, এই মর্যাদাগত পার্থক্যের কারণেই বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধি এবার সম্মেলনে যোগ দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তি চলছে। বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগ বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করলে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে সরকারিভাবে ঢাকার অবস্থান হলো, সম্মেলনের আমন্ত্রণটি যথাযথ পর্যায়ে (প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে) না আসায় এতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা এখনো টিকে আছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে বিশেষভাবে আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।













