সেতু মাহমুদ: ব্রাজিলে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ।
আগামী ৪ অক্টোবর দেশটির প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ২৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (MP) জারি করেন তিনি।
নতুন আদেশের আওতায় অনলাইন স্পোর্টস বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনোসহ নির্দিষ্ট অডসের বেটিং কার্যক্রমের পরিচালনা, প্রস্তাব, মধ্যস্থতা ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে দেওয়া সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও লাইসেন্সও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।
সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, নতুন করে বেটিং প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই। ব্যবহারকারীরা ৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ তুলে নিতে পারবেন। এরপর ৬ অক্টোবর থেকে বেটিংয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার কথা রয়েছে।
অবশিষ্ট অর্থ ফেরতের জন্যও সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। ৭ ও ৮ অক্টোবর বেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের অবশিষ্ট অর্থের তথ্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়ার কথা। এরপর ৯ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। কোনো কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক কাইশা ইকোনোমিকা ফেডারেল এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।
ব্রাজিলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির পরিবারগুলো বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল অনলাইন বেটিংয়ে ব্যয় করে। সরকার মনে করছে, বেটিংয়ের বিস্তার পারিবারিক অর্থব্যবস্থা ও ঋণ পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করছে। অর্থমন্ত্রী দারিও দুরিগান এটিকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই সিদ্ধান্তে দেশটির ক্রীড়া অঙ্গনেও প্রভাব পড়তে পারে। ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলোর বড় একটি অংশ অনলাইন বেটিং প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে ক্লাবগুলোর আয় ও স্পনসরশিপ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে বেটিং শিল্পের প্রতিনিধিরা সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়ন্ত্রিত বাজার চালুর পর প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স ও অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। ফলে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিপূরণ ও আইনি বিরোধের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ব্রাজিলে অনলাইন বেটিংয়ের নিয়ন্ত্রিত বাজার চালু হয়েছিল লুলা সরকারের সময়ই। ২০২৩ সালে এ খাতকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পর ২০২৫ সালের শুরু থেকে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। নতুন আদেশ সেই নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন আনল।
তবে নিষেধাজ্ঞাটি স্থায়ী করতে ব্রাজিলের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ১২০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।














