জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে এআইয়ের ইনজেকশন

Jaya Sarkar

প্রকাশ :নভেম্বর ২, ২০২৬

জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে এআইয়ের ইনজেকশন

নাবিলা কবির:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধু তথ্য বিশ্লেষণ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দিনকে দিন এআই হয়ে উঠছে মানুষের অন্যতম সহযোগী কিংবা পরিপূরক। তারই আরেকটি নমুনা দেখা গেল চিকিৎসা গবেষণায়।

এবার অপারেশনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে এআই। কাজ করেছে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারে এআই এজেন্টটি রোবটিক হাত নিয়ন্ত্রণ করে জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে জিন থেরাপির ইনজেকশন দিয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ওয়্যারডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বায়োটেক স্টার্টআপ এক্সিন থেরাপিউটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী গ্যাব্রিয়েল ওকানা স্যান্টেরো এই পরীক্ষা পরিচালনা করেন।

মৃগী রোগে আক্রান্ত একটি ইঁদুরের ওপর জিন থেরাপির কার্যকারিতা যাচাই করাই ছিল পরীক্ষাটির উদ্দেশ্য। সেজন্য গবেষকেরা একটি এআই এজেন্টকে রোবটিক হাত, ইনজেক্টর ও ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করেন। এআই এজেন্টটি চিকিৎসা নির্বাচন থেকে শুরু করে ইনজেকশন প্রয়োগের বিভিন্ন ধাপ পরিচালনা করে। পরীক্ষার শুরুতে একজন পশুচিকিৎসক সার্জন ইঁদুরটির মস্তিষ্কে প্রাথমিক অস্ত্রোপচার বা ক্রেনিওটমি করেন। এরপর এআই এজেন্ট গবেষকদের তৈরি স্প্রেডশিটে থাকা ১৯টি বিকল্প থেকে নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি ও ইনজেকশনের মাত্রা বেছে নেয়।

তবে শুরুতেই একটি জটিলতা তৈরি হয়। প্রথমে অ্যানথ্রোপিকের ক্লড ওপাস ৫.৫ মডেলটি ব্যবহার করা হলেও প্রাণীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে এটি ইনজেকশন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে গবেষকেরা ক্লড সনেট ৫ মডেল ব্যবহার করেন। সেটি পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়। অস্ত্রোপচারের সময় স্থানাঙ্ক বা কোঅর্ডিনেট নির্ধারণের ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। এআই এজেন্ট সমস্যাটি শনাক্ত করতে পারলেও নিজস্ব বিধিনিষেধের কারণে নিজে কোড পরিবর্তন করতে পারেনি। পরে আরেকটি এআই এজেন্টের সহায়তায় কোডের ত্রুটি সংশোধন করা হয়।

এই পরীক্ষায় এআই এজেন্ট শুধু চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করেনি। মস্তিষ্কের কোন অংশে ইনজেকশন দেওয়া হবে, তার স্থানাঙ্ক নির্ধারণ, রোবটিক হাত ও ইনজেকশন সূচ নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধের মাত্রা ও প্রয়োগের গতি নির্ধারণের কাজও করেছে। সাধারণত এ ধরনের অস্ত্রোপচারে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এবার কিছুটা বেশি সময় প্রয়োজন হয়েছিল।

এক্সিন থেরাপিউটিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যান্টেরোর মতে, ভবিষ্যতে এআই এজেন্টরা মানব বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি কাজ করবে। গবেষণাগারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরাসরি নিয়ন্ত্রণেরও সুযোগ পাবে। তবে আপাতত এ ধরনের পরীক্ষায় মানুষের তত্ত্বাবধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব গবেষণায় জীবন্ত প্রাণী জড়িত, সেসব ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তার মতে, মানব মস্তিষ্কে এআই এজেন্ট প্রয়োগের সময় এখনো আসেনি।

ইঁদুরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্যান্টেরো জানিয়েছেন, সেটি ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছে।

আরো পড়ুন...

শ্রমিক আন্দোলনে মিরপুরে গ্রেপ্তার ২৯