সৌদিতে হামলার জেরে ১৩৯ ফ্লাইট বিঘ্নিত, দুর্ভোগে প্রায় ২২ হাজার যাত্রী

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ২৮, ২০২৬

সেতু মাহমুদ:

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩৯টি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়েছে। এতে প্রায় ২২ হাজার যাত্রী ভ্রমণসংকটে পড়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দেওয়া হয়েছে। বিঘ্নিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৬টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা ২১ হাজার ৯২৭ জন।

সরাসরি ও ট্রানজিট: দুই ধরনের ফ্লাইটেই প্রভাব

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী কয়েকটি এয়ারলাইনসের সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও রিয়াদ এয়ারের ১০টি করে ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। ভারতের ইন্ডিগোর ২৮টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের পাশাপাশি অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করতে চাওয়া যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।

হামলার পর বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পর ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়েও বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল অবকাঠামোকে ঘিরে হামলার খবর পাওয়া যায়।

রয়টার্সের ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজার ৭১টি বাতিল হয়েছিল। একই সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাত হাজার ৮০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিলের তথ্যও উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের মাত্রা এক ছিল না; কোথাও সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ

ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সৌদি আরবে চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী এবং ছুটি শেষে কাজে ফিরতে চাওয়া প্রবাসীরা। নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে না পারলে কারও কারও ভিসার মেয়াদ, কর্মস্থলে যোগদান কিংবা ছুটির সময়সীমা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত না করে বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং যাত্রার নতুন সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য নেওয়া জরুরি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা চলতে পারে। ফলে যাত্রীদের যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করার পাশাপাশি ভিসা ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে।

বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পুনরায় যাত্রার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের ভিসা ও চাকরি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।