সেতু মাহমুদ: মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ। দেশজুড়ে একাধিক পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের (USGS) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পানামার পিতালোজা আরিবা এলাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, আতঙ্কে বাসিন্দারা ভূমিকম্পের প্রভাবে পানামার বিভিন্ন এলাকায় ভবনে ফাটল দেখা দেয়। পেনোনোমে শহরে কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিক সান আতানাসিও গির্জারও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
রাজধানী পানামা সিটিতেও দীর্ঘ সময় ধরে কম্পন অনুভূত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রোর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সুনামি সতর্কতা জারি ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কয়েকটি অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সাংপরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর পানামার বিভিন্ন এলাকায় ৪০টির বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। উদ্ধার ও জরুরি সেবার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি; তবে কিছু প্রতিবেদনে আহত হওয়ার তথ্য এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পানামা খালের কার্যক্রম স্বাভাবিকভূমিকম্পের পরও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ পানামা খালের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচলও পরে পুনরায় শুরু হয়।
ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।














