ড্রোন হামলার প্রতিরোধে চেকপোস্টে জাল টানালো পাকিস্তান

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ৮, ২০২৬

ড্রোন হামলার প্রতিরোধে চেকপোস্টে জাল টানালো পাকিস্তান

সেতু মাহমুদ: ড্রোন হামলা ঠেকাতে অভিনব এক প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের পুলিশ।

দেশটির হাঙ্গু জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল পুলিশ চেকপোস্ট ও স্থাপনার ওপর মাছ ধরার জালের মতো শক্ত জাল টানানো হচ্ছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা গত কয়েক মাস ধরে পুলিশ স্থাপনায় হামলার আগে বিস্ফোরক বহনকারী কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাঙ্গু পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলোর ওপর জাল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাঙ্গু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব খান জানান, কয়েকটি সংবেদনশীল চেকপোস্টে ইতোমধ্যে জাল বসানো হয়েছে। এসব জাল আকাশ থেকে আসা ড্রোনকে আটকে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে একটি পুলিশ পোস্টে জাল বসাতে প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি খরচ হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

কীভাবে কাজ করবে এই জাল?

চেকপোস্টের ছাদ ও চারপাশের দেয়ালের মধ্যে কয়েক মিটার ওপরে জাল টানিয়ে এক ধরনের কৃত্রিম ছাদ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিচে নামার সময় জালে আটকে গেলে সেটি থামানো বা বিস্ফোরণের প্রভাব কমানো সম্ভব হতে পারে।

হাঙ্গু পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি জালে আটকে গেলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আবার জালের ওপরে বিস্ফোরণ ঘটলেও বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর পড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

প্রথম দিকে হাঙ্গুর সারকি পিয়ালা চেকপোস্টে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে কেপির কোহাট, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত ও ডেরা ইসমাইল খানসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় একই ধরনের জাল ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড্রোন হামলা বাড়ায় নতুন প্রতিরোধ

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল সারকি পিয়ালা পুলিশ চেকপোস্টে ড্রোন হামলার পর সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। ওই হামলার পর বন্দুকযুদ্ধও হয় এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত ও একজন আহত হন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ ধরার জাল কোনো পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা নয়। এটি মূলত কম খরচে নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে। ড্রোন শনাক্ত ও আকাশেই নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে একে দেখার সুযোগ নেই।

হাঙ্গু পুলিশের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এই জাল শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ স্থাপনাগুলোকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন...

কেন গাড়ি কম চলছে কর্ণফুলী টানেলে!