সেতু মাহমুদ: রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে এক নারী গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যুর পর সম্ভাব্য সংক্রামক রোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই নারী দেশটির একটি অ্যান্টি-প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার মৃত্যুর পর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই গবেষককে অজানা কারণের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে তিনি প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এমন বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি রাশিয়া। পরীক্ষায় তাঁর নমুনায় কর্মস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিপজ্জনক জীবাণুর উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে অবশ্য সম্ভাব্য নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ওই নারী ইরকুতস্কের অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নতুন সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।ঘটনার পর শেলেখভ শহরের যে হাসপাতালে ওই নারী চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেটিও কোয়ারেন্টিনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি ও ছাড়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।নিউমোনিক প্লেগ হলে তা ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসৃত কণার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়াতে পারে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বর্তমানে রাশিয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বাইরে ঝুঁকি খুবই কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে নজরদারি বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রুশ কর্তৃপক্ষও জনগণকে গুজবের পরিবর্তে সরকারি তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।














