হাসিনা তখনো প্রধানমন্ত্রী: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ৪, ২০২৬

হাসিনা তখনো প্রধানমন্ত্রী: দীনেশ ত্রিবেদী

জয়শ্রী রানী: রাজধানীর এক হোটেলে চলমান আন্তর্জাতিক সংলাপ "বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬"-এর এক প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) "পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স" শীর্ষক এই প্যানেল আলোচনার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "শেখ হাসিনা যখন ভারতে যান, তিনি তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।" তিনি সেই সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, "সামরিক বিমানটি যখন ভারতে এসেছিল, তখন ভারত এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম, আর স্ক্রলে লেখা আসছিল যে তিনি অন্য কোথাও যাচ্ছেন।"

ভারতীয় হাইকমিশনার স্পষ্ট করেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে যায়নি বরং বাংলাদেশে তৈরি হওয়া সেই মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক বিমানটি ভারতে এসে পৌঁছায়। তিনি বলেন, "আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম যে না, আমরা তাঁকে গ্রহণ করব না, অবতরণের অনুমতি দেব না তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, তা আমার জানা নেই। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াটাই ছিল আমাদের দায়িত্ব। এটিই মূলত ঐতিহাসিক কারণ।"

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একাধিকবার স্পষ্ট করেছে যে, বিষয়টি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যেই এগোচ্ছে।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যকার বৃহত্তর সম্পর্কের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিছক লেনদেনভিত্তিক স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কও বটে।

আরো পড়ুন.....

৭-০ গোলে আর্জেন্টিনার বিশাল জয়, উড়ে গেল বুরকিনা ফাসো