হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুততে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ৩, ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুততে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান

সেতু মাহমুদ: ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। এদিকে সৌদি আরবের পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে পাকিস্তান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এতে সৌদি বিমানবাহিনী আকাশপথে সহায়তা দেবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের সামনে সীমিত পরিসরে উপকূলীয় অভিযান অথবা একাধিক এলাকায় একযোগে সামরিক তৎপরতা চালানোর বিকল্প রয়েছে। ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশে অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।

পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা

রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেপ্টেম্বর মাসে চারটি কার্গো বিমানে সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনের এডেনে পাঠিয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে হালকা কামান ও ড্রোন রয়েছে বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে। এগুলো ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

এ ছাড়া পাকিস্তান সৌদি আরবেও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং সীমান্ত সুরক্ষায় পাকিস্তানি সামরিক সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পাঠানো সরঞ্জাম সরাসরি আসন্ন অভিযানে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। তিন দেশ আগামী সপ্তাহে রিয়াদে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছে। হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অভিযান শুরু হলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে সৌদি আরবের পরিকল্পনা, পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের সামরিক পরিস্থিতির ওপর।

আরো পড়ুন...

ঢাকায় শুরু আন্তর্জাতিক সংলাপ