ওষুধ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

ওষুধ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

সেতু মাহমুদ: বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানিতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন। বিশেষ কিছু ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (BIS) ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক নোটিশে বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের জন্য শূন্য শতাংশ শুল্কের বিধান এবং যোগ্য দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের সব ধরনের ওষুধ রপ্তানির ওপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মার্কিন নোটিশ অনুযায়ী, শূন্য শুল্কের সুবিধা নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক চিকিৎসা, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেট এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ। এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট কিছু উপাদানও সুবিধার আওতায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ২০২৬ সালের ২ এপ্রিলের ঘোষণার আওতায় নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। একই নীতিতে কিছু বিশেষায়িত ওষুধকে নির্দিষ্ট শর্তে শূন্য শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেনেরিক ওষুধ বর্তমানে এই নির্দিষ্ট Section 232 ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতায় পড়ে না। ফলে বাংলাদেশের প্রচলিত জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারকদের ওপর এই নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রভাব পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য নতুন সুবিধাটির গুরুত্ব মূলত বিশেষায়িত ওষুধের বাজারে সম্ভাব্য প্রবেশাধিকারের সঙ্গে যুক্ত। দেশের ওষুধ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত ওষুধ, কাঁচামাল কিংবা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে পারলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হতে পারে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট বাংলাদেশি ওষুধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য শুল্ক পাবে এমনটি বলা যাচ্ছে না। পণ্যের শ্রেণি, উৎপত্তি, সংশ্লিষ্ট মার্কিন শুল্ক কোড এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। মার্কিন নোটিশে বলা হয়েছে, কিছু পণ্য শূন্য শুল্কের আওতায় আসতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে; পাশাপাশি জরুরি মার্কিন স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণকারী কিছু পণ্যের জন্যও অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে নতুন সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য সম্ভাব্য একটি বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করলেও এর বাস্তব সুবিধা নির্ভর করবে কোন কোন বাংলাদেশি পণ্য নির্ধারিত শ্রেণির মধ্যে পড়ে এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্ত কতটা পূরণ করতে পারে তার ওপর।

আরো পড়ুন

সারাদেশে চলছে ভ্যাপসা তাপদাহ, সাগরে গভীর নিম্নচাপ