এক মাস না পেরোতেই ফের দুর্যোগের ধাক্কা, নেপালে নতুন শঙ্কা

Jaya Sarkar

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

এক মাস না পেরোতেই ফের দুর্যোগের ধাক্কা, নেপালে নতুন শঙ্কা

অতিন বিশ্বাস: এক মাস না পেরোতেই ফের দুর্যোগের ধাক্কা, নেপালে নতুন শঙ্কাভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেপাল।

এরই মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে দেশটি আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে।

গত আগস্টে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে নেপালে ভারী বৃষ্টি হলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক দুর্যোগেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, উদ্ধারব্যবস্থা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।

এক দুর্যোগের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন দুর্যোগের শঙ্কা নেপালের মানুষের জন্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।আন্তর্জাতিক ডেস্কভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষত পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও ভারী বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে নেপাল। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে টানা বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টিজনিত বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ আগেই ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এর ফলে নদীর পানি দ্রুত বাড়া, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক করা হয়। পাহাড়ি এলাকায় পর্যটক ও ট্রেকারদেরও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে দেশটির কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বুটওয়ালে টিনাউ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীতীরবর্তী কয়েকটি বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিতওয়ানেও নারায়ণী নদী ও রিউ খালের পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে চিতওয়ানের বিভিন্ন সড়কে ভূমিধস ও কাদামাটির প্রবাহে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণঘাট-মুগলিন সড়কের কয়েকটি অংশেও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নতুন এই দুর্যোগের সময়কালও বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। মাত্র এক মাস আগে, ২৬ আগস্ট নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। রাশুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ানসহ বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দুর্যোগে বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং হাজারো পরিবার জরুরি সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের বন্যার পরও অনেক পরিবার অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় বন্যার পর সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রোগ নজরদারি জোরদার করেছে।

এদিকে নেপালের আবহাওয়াবিদরা চলতি পরিস্থিতিতে পাহাড়ি ঢাল, নদীতীর ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় বাড়তি সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছেন। বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এক দুর্যোগের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি হওয়ায় নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে নতুন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

আরো পড়ুন....

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা