মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে লোহা পরিবহনের সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম এর সভাপতিত্বে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয় ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, সোনাইছড়ি, বিজয় সরণি, কুমিরা, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকায় চলন্ত ট্রাক থেকে সংঘবদ্ধভাবে লোহা চুরির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। লোহা চুরি, চোরাই লোহা পরিবহন, মজুদ ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। বৈধ উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া লোহা ক্রয়-বিক্রয় বা মজুদ করা হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চোরাই লোহা চক্র দমনে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর আগের মামলাগুলো পর্যালোচনা করে পেশাদার চোর, পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামি, চক্রের মূলহোতা, সহযোগী ও চোরাই মালের ক্রেতাদের তথ্য হালনাগাদ করা হবে। চুরি প্রবণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে ভাঙারি ও স্ক্র্যাপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা যাচাই করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। police.chittagong.gov.bd
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবহনের সময় ট্রাকের নম্বর ও চালকের তথ্য সংরক্ষণ, জিপিএস ট্র্যাকিং চালু, মালামাল সিলগালা ব্যবস্থা জোরদার এবং কারখানার গেটে সিসিটিভি ও নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। চুরি প্রবণ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।













