মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সেবাদান প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সভায় নগরীর জলাবদ্ধতার প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর উপজেলা সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং সিটি মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেনের তত্ত্ববধায়নে জলাবদ্ধতা নিরসন কাজ করা হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যথাযথ সগযোগীতা প্রদান করবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সমস্যা। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও ভোগান্তি তৈরি হয়। অনেক এলাকায় পানি দীর্ঘসময় জমে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সভায় নগরীর খাল, নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি যেসব স্থানে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের চলমান কাজের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা একটি একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল ও নালা রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সভায় আলোচিত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু বর্ষা মৌসুমে সাময়িক উদ্যোগ না নিয়ে জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব হবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।













