আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নিউইয়র্কের একটি হোটেলে ১৯৯৩ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াট্রিস কিউল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে কিউল জানিয়েছেন, ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে প্লাজা হোটেলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তদন্তকারী দলের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
তবে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্পকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্য ভুয়া এবং অ্যাপস্টাইন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সাফল্য থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে ডেমোক্র্যাটরা এ উদ্যোগ নিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাটিক কমিটির কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয়ের বিবরণ দেন। তাঁর দাবি, ২৪ বছর বয়সে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়। সে সময় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। কিউলকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’
কিউলের অভিযোগ, পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাঁকে প্লাজা হোটেলের ওপরের একটি তলায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প পেছন থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত ও রক্তপাত হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে। কিউল ওই ঘটনাকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প তাঁকে বিছানার পাশে বসান এবং ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি আবারও দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘শো চলতেই হবে।’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিউলের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তাঁকে ঠোঁট ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন এবং পোশাক সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, ট্রাম্প তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেছিলেন। তবে তখন কিউল বলেছিলেন, কথা বলে তিনি পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পেরেছিলেন এবং নিজের উচ্চতার কারণে রক্ষা পেয়েছিলেন।
ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, প্রায় দুই দশক আগেই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে ঘটনাটি জানিয়েছিলেন কিউল। ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে ডেমোক্র্যাটিক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন দাবি করেছেন, অ্যাপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তাঁর সান্নিধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন পাঁচজন নারী। আরও কয়েকজনের বক্তব্যে অ্যাপস্টাইন কিংবা ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে তাঁদের ট্রাম্পের কাছে পাচারের চেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাসকিনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দিতে বিচার বিভাগ এসব ঘটনা আড়াল করছে বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ট্রাম্পের অ্যাপস্টাইন-সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














