নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিরাপত্তাহীনতা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ রেখেছেন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে তাঁদের এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ভর্তি ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দেওয়া, রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় রাখা এবং দ্রুত ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু করা।
সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে অতিরিক্ত স্বজন ও দর্শনার্থীদের অবাধ প্রবেশ এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে চিকিৎসকদের ওপর দলবদ্ধ হামলা বা ‘মব’ সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনদের ভয়ে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক সাধারণ পোশাক পরে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন বলে তাঁদের দাবি। এ ছাড়া অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু না থাকায় রোগীদের চাপ সরাসরি ভর্তি ওয়ার্ডে পড়ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
দাবি আদায়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংগঠনটির অভিযোগ, সমস্যাগুলো নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু বলেন, ‘আমাদের এই দাবিগুলো বিভিন্ন সময়ে জানিয়ে আসছি। আমাদের নিরাপত্তাহীনতা এখন চরমে। দাবিগুলো পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
অন্যদিকে, রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ দাবি করেছেন, কর্মবিরতিতে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে তেমন প্রভাব পড়ছে না। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে হাসপাতালের পরিচালক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। দ্রুতই বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














