সাতকানিয়ায় জাহিদ হত্যা মামলায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

সাতকানিয়ায় জাহিদ হত্যা মামলায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চাঞ্চল্যকর জাহেদুল আলম ওরফে পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জসিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোঃ রিদুয়ান, মোঃ টিপু, আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ, আব্দুল্লাহ আল তুষার, খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক, মোঃ রবিউল হোসেন, আবুল কাশেম, হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব, মোঃ হেলাল ও মোঃ আজাদ রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মোঃ আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তার জবানবন্দি ও অন্যান্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে জানা যায় পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কেটে চুরি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত।

জাহিদের গাছ কাটার ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করেন মানিক নামে এক যুবক, এরপর থেকেই মানিক ও তার বন্ধুদের সঙ্গে জাহিদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে এবং নতুনহাট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের সামনে হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহিদকে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে রাত ১০টার দিকে জাহিদ তার সহযোগী ওয়াহিদকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়া যাওয়ার পথে গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে পথরোধ করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে জাহিদ গুরুতর আহত হয়ে মারা যান এবং ওয়াহিদও আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা দেশব্যাপী অভিযান শুরু করে। প্রথমে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মোঃ আজাদ ও মোঃ হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় একাধিক আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।

আরো পড়ুন...

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অষ্টম একনেক সভা শুরু