সেতু মাহমুদ: কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন অন্তত ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এই হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)
এবং কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে রাজধানী বোগোতা থেকে
প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ভূগর্ভের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।
মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় সাগরে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
তবে মূল ভূকম্পনের পর চোকো ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিসের তথ্য মতে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূকম্পনটি অনুভূতের সৃষ্টি করে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় চোকো (Chocó) প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে, ভূগর্ভের প্রায় ৯৬ থেকে ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পনে রাজধানী বোগোতাসহ দেশের বড় শহরগুলো কেঁপে ওঠে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি পরাঘাত (Aftershocks) রেকর্ড করা হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমান
ক্ষতিগ্রস্ত ভবন: প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলিয়ার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আঘাতে দেড় হাজারের বেশি
(প্রায় ১,৫৭৭টি) আবাসিক বাসাবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
এবং কমপক্ষে ৬০টিরও বেশি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: কফি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত পেরেইরা (Pereira) শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই এলাকাতেই অন্তত ৬০ জন মারা গেছেন। শহরের রাস্তাঘাটে ধ্বংসস্তূপ জমে গেছে
এবং বিমানবন্দরগুলোতে অবকাঠামোগত ক্ষতি হওয়ায় বিমান চলাচল ব্যাহত বা স্থগিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল ধসে আটকে পড়া রোগী: ক্যালি (Cali) শহরের খ্যাতনামা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও নবজাতক ওয়ার্ডসহ প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ ধসে পড়ে।
সেখানে বেশ কিছু রোগী ও শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন, যাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













