আলোচিত করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

আলোচিত করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি )। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাউজানের উরকিরচর এলাকার মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত পারভেজ এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিমকে হত্যা করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন সেখানে এসে করিমকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তাকে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।

তদন্তে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা উঠে আসে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হলেও করিম চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। এতে পারভেজ ক্ষুব্ধ হন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনা হয়। সেখানে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তদন্তের এই পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর ও মো. জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে।

পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় এলজি, একটি এয়ারগান, দুই রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি রক্তমাখা চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার যন্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সেলিম ও আলামিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা ছিল।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব মামলার তথ্য তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান হত্যা মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না; বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক পারভেজকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাউজানে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পুলিশ বলছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অস্ত্র উদ্ধারের ফলে মামলাটির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ও প্রত্যেক আসামির ভূমিকা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

আরো পড়ুন...

পটিয়ায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ