মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ দামপাড়া পুকুরপাড় এলাকা থেকে একসঙ্গে ১৪ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গত সাত মাসে সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের দাবিও নতুন করে জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে।
তবে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ১৪ জন শিশু একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার দাবিটি এখন পর্যন্ত কোনো পুলিশি সূত্র বা প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠেছে, এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতীতে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে যে শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত কিছু তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রচারিত হচ্ছে, যা জনমনে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
তবে দেশজুড়ে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত পরিসংখ্যান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর নিজেই। বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, আর প্রায় ২ হাজার ৩৮ জন শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে, নিখোঁজের তথ্য পরবর্তীতে যথাযথভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এই পরিসংখ্যানে কিছুটা বিভ্রান্তির অবকাশ থেকে যেতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পর্যবেক্ষণেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত ৩৬ জন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর একই সময়ে মোট ২৫৪ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্যও তাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর আসক এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে, নিখোঁজের পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয় এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।
এ প্রেক্ষাপটে শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নিখোঁজের প্রকৃত কারণ ও সংখ্যা নিয়ে একটি সমন্বিত, নিয়মিত হালনাগাদকৃত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরি জরুরি, যাতে নিখোঁজ, উদ্ধার ও অমীমাংসিত ঘটনার সঠিক চিত্র জনসম্মুখে আসে এবং গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্যের সুযোগ কমে আসে। একই সঙ্গে আগ্রাবাদ এলাকার সুনির্দিষ্ট দাবিটির ক্ষেত্রে স্থানীয় থানা বা সিএমপির মাধ্যমে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।













