অতিন বিশ্বাস: মানবপাচার প্রতিরোধে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মানবপাচার একটি গুরুতর ও অমানবিক অপরাধ। এ অপরাধ দমনে আইনকে কার্যকর করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) দ্বারা আয়োজিত মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি ।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের মাধ্যমে অপরাধী চক্র মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করে। এই অপরাধ বন্ধ করতে বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন ও প্রয়োগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে মানবপাচারসংক্রান্ত আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬-এ মানবপাচারের সংজ্ঞা ও অপরাধের বিভিন্ন ধরনকে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মানবপাচারসংক্রান্ত মামলা পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তার মতে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযোগকারীদের সহযোগিতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনবল ও সক্ষমতার ঘাটতি মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। সারাদেশে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতিকে শুধু বিচারকদের ওপর দায় চাপিয়ে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত নানা বিষয়ও জড়িত। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশিদের যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে সভায়। আইনমন্ত্রী বলেন, উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে অনিয়মিত অভিবাসন ও প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেক মানুষ বিদেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রবাসী ও বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের আইনগত সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের সহায়তা নিতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় মানবপাচার প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইউএনওডিসি, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।













