অতিন বিশ্বাস: সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বিশেষ করে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। অপরাধের খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে পেশাগতভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসব সাংবাদিককে অনেক সময় চড়া মূল্য দিতে হয়। তবে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেশে এখনো পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলেও স্বীকার করেন তিনি।
সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে নিজের সহযোগিতার কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। সাংবাদিকদের যৌক্তিক প্রয়োজনে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা প্রয়োজন মনে করলে তার কাছে এসে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। সম্মিলিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তথ্যমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১৫টি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিটির প্রতিই তার দায়িত্ব রয়েছে।
দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, নতুন করে কোনো স্থাপনা তৈরি করার তুলনায় পুরোনো ও দুর্বল কাঠামো সংস্কার করে সেটিকে আবার কার্যকর করে তোলা বেশি কঠিন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ। এতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ ক্র্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চলমান থাকার মধ্যে তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য এসেছে। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ভোলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়েও তিনি গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা বলেছিলেন।













