শাওন বড়ুয়া, চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোমা দত্তের বিরুদ্ধে শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. সোমা দত্ত শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে অবস্থান করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি বেতন ও অন্যান্য ভাতা গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে এসব বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এভাবে তিনি প্রায় ৪৭ লাখ টাকা বেতন-ভাতা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়ার পর ড. সোমা দত্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষা ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরে আসা এবং বিদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নিয়ম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ড. সোমা দত্তের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা বা আপত্তি থাকলে তা প্রকাশিত হলে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সরকারি অর্থ থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও নিয়ম মেনে চলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













