মানসিক স্বাস্থ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুন ১৪, ২০২৬

 

ডেস্ক রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ইন্টারনেট নির্ভর যোগাযোগ মাধ্যম যা গত কয়েক বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমানে হাজারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাই সাইট রয়েছে যেগুলো মানুষকে একইরকম সেবা প্রদান করে থাকলেও একেকটি একেক রকমভাবে কাজ করে।

তবে কিছু সাইট অন্যগুলোর চেয়ে জনপ্রিয়। তারপরেও কম জনপ্রিয় সাইটগুলোও কেউ না কেউ ব্যবহার করে। কারণ প্রতিটি সাইটের কিছু বৈচিত্র্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে, যা একজন ব্যবহারকারীকে সেই সাইটটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক: মানবজীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব অপরিসীম। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এই মাধ্যমের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুভাবেই প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আমরা কী ধরনের বিষয়বস্তু খুঁজি, আমাদের বার্তার সুর কেমন, এবং আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছি নাকি শুধু স্ক্রল করছি এই সমস্ত বিষয়ই আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ ফলাফলে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে ভূমিকা রাখে।

  • মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগের ইতিবাচক প্রভাব: সামাজিক মাধ্যম এবং সুস্থ জীবনের মধ্যে সংযোগ নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে সামাজিক মাধ্যম মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করছে।

এক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী চন্দন সরকার বলেন, যোগাযোগ স্থাপনের দ্রুততম ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হলো ফেসবুক ও হোয়ার্স্টঅ্যাপ। এছাড়াও অর্থ উপার্জনে দ্বারও খুলেছে। তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যম দ্বারা তিনি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা আয় করেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু এবং জনসমক্ষে আলোচনা মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও তা মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে বোঝাপড়া উন্নত করেছে। এছাড়া লেখা, শিল্পকলা এবং গল্প বলা আবেগ প্রক্রিয়াকরণ ও আত্ম-অনুসন্ধানের মাধ্যম প্রদান করে থাকছে।

  • মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগের নেতিবাচক প্রভাব: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এনগেজমেন্ট সর্বাধিক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইনফিনিট স্ক্রলিং, পরিবর্তনশীল পুরস্কারের সময়সূচী, নোটিফিকেশন এবং পাবলিক ফিডব্যাক মেট্রিক্সের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো মস্তিষ্কের পুরস্কার-শিক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় করে। এই ব্যবস্থাগুলো লাইক এবং কমেন্টের মতো স্বীকৃতির মাধ্যমে বারবার চেক করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকে শক্তিশালী করে।

নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী কল্যাণ রায় বলেন, সামাজিক মাধ্যমে কোনকিছু পোষ্ট করলে এক অস্থিরতা কাজ করে। বারবার দেখতে ইচ্ছে করে কয়টা লাইক বা কমেন্ট হয়েছে।

অন্যদিকে আরেক ব্যবহারকারী বর্ষ সরকার বলছেন, মাঝেমধ্যে ফেসবুকে কিছু তার বন্ধু তালিকায় থাকা কিছু বন্ধু এমন কিছু ছবি পোষ্ট করেন যা স্বাভাবিক নয়। যেমন: কুরবানি ঈদে গরু জবাইয়ের রক্তাক্ত ছবি।

অন্যদিকে, গবেষণা বলছে, সামাজিক মাধ্যমে এনগেজমেন্ট ইচ্ছাকৃত মিথস্ক্রিয়া থেকে বাধ্যতামূলক আচরণের দিকে যেতে পারে। মানসিক চাপ, একাকীত্ব বা মানসিক অস্বস্তি। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার একটি স্বল্পমেয়াদী মোকাবেলা করার কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও এই কৌশলটি সাময়িক মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে বা স্বস্তি দিতে পারে, বারবার এর উপর নির্ভরতা আবেগ নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা কমিয়ে দিতে পারে।

কিছু গবেষণা এমনও বলছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুতালিকা বৃদ্ধি পেয়ে থাকলেও মানুষ একা হয়ে যাচ্ছে। এমনকি চ্যাটিয়ে কথা বলাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে সরাসরি কথা বলার থেকে।

সামাজিক মাধ্যম জুড়ে সাইবার বুলিং ট্রল, অশালীন মন্তব্য বা বডি শেমিংয়ের শিকার হয়েছেন এমন মানুষের অভাব নেই। এসব কারণেও অনেকেই চরম মানসিক ট্রমার শিকার হয়ে থাকেন।

সুতরাং বলা যায়, স্যোসাল মিডিয়ার যেমন নেতিবাচক দিক রয়েছে তেমনি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। আমাদের নিজেদের সাবধাণতা নিজেদেরকে নিশ্চিত করতে হবে।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/জীবনযাপন/স্বাস্থ্য