জয়শ্রী রানী: বিএনপি সরকারের ইসলামবিরোধী আইন পাসের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি ও আলেম সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও পাস হওয়া 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬' নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ ৭ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, “৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস করা এদেশের সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের ওপর আঘাতের শামিল।
পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং প্রচলিত শরিয়াহ ব্যাখ্যা অনুযায়ী হেবা সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রহীতার কাছে সম্পত্তির দখল হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
অথচ নতুন আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে যা হেবা ও মালিকানা হস্তান্তর বিষয়ে শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
সংগঠনটির অভিযোগ, বিলটিতে এমন কিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক
এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত মিরাসি বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামে সম্পত্তি হস্তান্তর, দান ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কুরআনের সূরা নিসাসহ বিভিন্ন আয়াতে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কিন্তু নতুন এই আইনে দাতাকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও আজীবন তা ভোগদখলের সুযোগ রেখে দেওয়া হয়েছে, যা শরিয়াহসম্মত হেবার মূলনীতির পরিপন্থী।
তাদের দাবি, এভাবে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত হকদারদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ছাত্রশিবির নেতারা আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইন প্রণয়ন জাতির ঈমান-আকিদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি স্পর্শকাতর বিষয়।
এ ধরনের আইন প্রণয়নের আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করে সংগঠনটি।
তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে বিলটি পাস করানো হয়েছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির অবিলম্বে বিলের কুরআন-সুন্নাহবিরোধী ও বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের জোর দাবি জানায়।
পাশাপাশি সংগঠনটি দাবি করে, বিলটি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও ইসলামি স্কলারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ডের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হোক, যাতে আইনটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পুনর্গঠন করা যায়।
উল্লেখ্য, সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ একাধিক সংসদ সদস্যও একই ধরনের আপত্তি তুলে বিলটি এই অধিবেশনে পাস না করে শরিয়াহ কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন।













