শিক্ষা ডেস্ক: IELTS ছাড়া কিভাবে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন?
বাংলাদেশসহ প্রায় সারাবিশ্বে IELTS খুব পরিচিত শব্দ হয়ে উঠেছে।
বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে হোক বা পরিবার নিয়ে দেশের বাহিরে বসবাস করার লক্ষ্যে হোক IELTS প্রায়সয় প্রয়োজন হয়।
উচ্চশিক্ষার বা বিদেশে গিয়ে বসবাসের স্বপ্ন তখনই ভেঙ্গে যায় যখন আইএলটিএস পরীক্ষা প্রয়োজনীয় হয়েে উঠে।
ইংরেজি ভাষার প্রতি ভীতি হোক বা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে হোক,
অনেকেই আইএলটিএস-এ কাঙ্ক্ষিত স্কোর তুলতে পারেন না ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন কখনো পূরণ হবেনা বলে ভেবে বসেন।
তবে আর নয় এমন চিন্তা।
এখন IELTS ছাড়াও বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন হতে পারে পূরণ।
MOI (Medium of Instruction) এর সুবিধা:
বিশ্বের অনেক নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ তৈরিতে MOI হতে পারে আপনার জন্য আর্শীবাদ।
MOI বা Medium of Instruction এমন একটি সার্টিফিকেট যা প্রমাণ করে যে আপনার ব্যাচেলর বা অনার্স মাধ্যম সম্পূর্ণ ইংরেজিতে ছিলো।
অর্থাৎ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন আপনি। অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এই একটিমাত্র কাগজ গ্রহণ করে আপনাকে সরাসরি ভর্তির সুযোগ দিয়ে থাকে।
ইংরেজির বিকল্প দক্ষতা পরীক্ষা:
ইংরেজির প্রতি ভীতি থাকলে আইএলটিএসের বিকল্প দক্ষতা পরীক্ষা হিসাবে আরো কিছু সহজ এবং সাশ্রয়ী পরীক্ষা রয়েছে যা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
Duolingo English Test (DET): ডুয়োলিংগো হলো ইংরেজি ভাষার একটি মানসম্মত পরীক্ষা যা কাগজ-ভিত্তিক না হয়ে ইন্টারনেট-ভিত্তিক হওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এই পরীক্ষা ঘরে বসেই দেওয়া যায় এবং আইএলটিএস-এর চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী ও সহজ। বর্তমানে Uk সহ বেশ কিছু দেশ এটা গ্রহণ করে থাকে।
PTE Academic: PTE বা Pearson Test of English হলো বিদেশে পড়াশোনা, অভিবাসন বা কাজের জন্য একটি কম্পিউটার-ভিত্তিক অ্যাকাডেমিক ইংরেজি পরীক্ষা।
এটি মূলত কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা যা আপনার উচ্চশিক্ষার পথ প্রসারিত করতে পারে। পরীক্ষা কেন্দ্রে মাত্র ২ ঘণ্টায় আপনার সমস্ত ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা করে।
এটি দ্রুত এবং সুবিধাজনক পরীক্ষা পদ্ধতি।
TOEFL: TOEFL বা Test of English as a Foreign Language পরীক্ষাটি আইএলটিএস এর মতোই আরেকটি আন্তর্জাতিক পরীক্ষা।
পরীক্ষাটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে কথিত, লিখিত
এবং শ্রুত উত্তর আমেরিকান ইংরেজি ব্যবহার ও বোঝার ক্ষেত্রে ইংরেজি যাদের মাতৃভাষা নয়, তাদের দক্ষতা পরিমাপ করে।
এই পরীক্ষাটি সারাবিশ্বে আইএলটিএস এর মতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে থাকে।
যেসব দেশে আইএলটিএস ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে:
বিশ্বের বেশকিছু দেশ রয়েছে যারা আইএলটিএস ছাড়া আপনাকে তাদের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ প্রদান করে। যেমন:

১. যুক্তরাজ্য (UK): যুক্তরাজ্যের অনেক শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় আইএলটিএস এর পরিবর্তে MOI (Medium of Instruction) গ্রহণ করে।
তাড়াছা আপনার যদি এইচএসসি (HSC) পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালো নম্বর (সাধারণত ৭০% বা তার বেশি) থাকে
তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আইএলটিএস ছাড়াই সরাসরি ভর্তির দেয়।
২. কানাডা (Canada): শীত প্রধান দেশ কানাডা হতে পারে একটি উত্তম পছন্দ।
আপনার প্রোফাইল যদি স্ট্রং হয় তবে খুব সহজে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে MOI বা অনলাইন ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া যায়।
৩. ইউরোপের বিভিন্ন দেশ: ইউরোপের বেশ কিছু দেশ রয়েছে যা আপনার যোগ্যতা বা দক্ষতা অনুযায়ী আপনাকে তাদের দেশে পড়াশোনার সুযোগ দিয়ে থাকে।
জার্মানি: জার্মানির অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো টিউশন ফি নেই।
আপনার আগের কোর্সটি যদি ইংরেজিতে হয়ে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে MOI সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন, তবে আইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করা সম্ভব।
ফ্রান্স ও ইতালি: এই দেশগুলোতেও MOI-এর মাধ্যমে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কাইপ ইন্টারভিউ দিয়ে ভর্তি হওয়া যায়।
আইএলটিএস ছাড়া আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
আবেদনের পূর্বে কিছু ব্যাপারে খেয়ার রাখা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট চেক করুন: আবেদনের আগে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের 'English Language Requirements' পেজটি ভালো করে পড়ে নিন।
স্ট্রং এসওপি (SOP) লিখুন: আপনার Statement of Purpose বা SOP নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অন্যতম শর্ত হয়ে থাকে।
আপনার SOP অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন কেন আপনি আইএলটিএস ছাড়াও এই কোর্সের জন্য আপনি নিজেকে যোগ্য মনে করছেন।
একাডেমিক রেজাল্ট: আইএলটিএস না থাকলে আপনার পূর্বের একাডেমিক রেজাল্ট (CGPA) যত ভালো হবে, ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
সুতরাং আইএলটিএস নেই বলেই যে বিদেশে পড়াশোনার আশা ছেড়ে দিতে হবে এমনটা নয়। আপনি চাইলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে চলে আসতে পারেন আপনার পছন্দের দেশে।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/শিক্ষা













