জয়শ্রী রানী, নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার শাসনব্যবস্থার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেখা গিয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই পথ অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের বিষয়ে সতর্ক করেন।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এনসিপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি সামনে আসে। তার অভিযোগ, সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তনের পরিবর্তে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর ধারাবাহিকতাই বজায় থাকছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, বর্তমান সরকার যদি আওয়ামী লীগের পুরোনো পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকে, তাহলে জনগণ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্পন্ন হয় না। রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তার মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাজনৈতিক দল বা সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র পরিবর্তিত হবে না।
তিনি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে অভিযোগ ছিল, তা থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নতুন ধরনের বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দলীয় রাজনীতিতে জবাবদিহি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তবে বর্তমান সরকার বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের পক্ষ থেকে নাহিদ ইসলামের এসব অভিযোগের বিষয়ে কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা ওই বক্তব্যের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি।
নাহিদ ইসলামের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যেও সেই আলোচনারই প্রতিফলন দেখা গেছে।













