চট্টগ্রামে সব রুটে বাসভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

চট্টগ্রামে সব রুটে বাসভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মুরাদপুর থেকে রাউজান রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাবকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় যাত্রী খালেদ বিন মাহমুদ বলেন, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় অনেকেই হঠাৎ করে বাড়তি ভাড়া দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বিশেষ করে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রয়োজনে এই রুটে যাতায়াতকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। chittagong.gov.bd

ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, নতুন পে-স্কেল এখনো চূড়ান্তভাবে কখন এবং কী হারে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে বর্তমান বাসভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চুয়েট শিক্ষক ইসমাইল হোসেন যিনি নিয়মিত বাসে যাতায়াত করেন, তিনি বলছেন, বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় সামান্য বাড়লেও মাস শেষে সেটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের আয় বাড়েনি, তাদের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে।

মুরাদপুর-রাউজান রুটটি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই পথে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।

তবে নতুন ভাড়ার নির্দিষ্ট হার, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তা কার্যকর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

যাত্রীদের দাবি, পরিবহন ভাড়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা এবং তা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বিরোধ কমবে।

এদিকে যাত্রীদের একটি অংশ বলছে, জ্বালানি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের বাস্তব পরিবর্তন থাকলে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। তবে যেকোনো ভাড়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তা যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং যাত্রীদের সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে করা হয় এটাই তাদের প্রত্যাশা।

আরো পড়ুন...

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে হঠাৎ পতন