স্পিকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

স্পিকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

অতিন বিশ্বাস: সবুজে সাজানো ও পরিবেশবান্ধব সড়ক গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলার ডাওরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

‘সবুজ, সুসজ্জিত ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের উভয় পাশে পর্যায়ক্রমে গাছের চারা রোপণ করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মহাসড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের ফলে সড়কটির পরিবেশগত সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সড়কের পাশে গাছ থাকলে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ, ছায়া সৃষ্টি এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোলা একটি দ্বীপজেলা হওয়ায় এখানকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজায়ন বাড়ানোর উদ্যোগকে পরিবেশ সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।

বিশেষ করে মহাসড়কের দুই পাশে গাছের সারি গড়ে উঠলে সড়কপথে চলাচলকারী মানুষ যেমন স্বস্তি পাবেন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে পথের দুই পাশের দৃশ্যপটেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি চারা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। শুধু চারা রোপণ করলেই কর্মসূচির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না; সেগুলো যাতে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।

দেশজুড়ে সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি বছর বিভিন্ন পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিসরে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। জুন মাসে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর সবুজায়ন প্রচেষ্টার স্থানীয় একটি কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাসড়কের ৭০ কিলোমিটার অংশে বৃক্ষরোপণের ফলে সড়কটির দুই পাশকে একটি দীর্ঘ সবুজ করিডরে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার পরিবেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। গাছ বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। সড়কের পাশে পর্যাপ্ত গাছ থাকলে অতিরিক্ত তাপ ও ধুলাবালির প্রভাবও কিছুটা কমানো সম্ভব।

এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। রোপণ করা চারাগুলোর পরিচর্যা, গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত করা গেলে কর্মসূচির সুফল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে কোন ধরনের গাছ কোথায় লাগানো হবে, সে বিষয়েও স্থানীয় মাটি, আবহাওয়া ও সড়কের নিরাপত্তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে ৭০ কিলোমিটারজুড়ে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তাই কেবল সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নয়; সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এটি উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে পারে।

আরো পড়ুন...

মঙ্গলবার সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি