অতিন বিশ্বাস: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন 'উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬' জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে এই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
যেহেতু সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন এবার নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে
তাই ২০১৬ সালের পুরোনো আচরণবিধি বাতিল করে এই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার উদ্দেশ্যে আর পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।
ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি এবং সরকারি স্থাপনাসহ কোথাও পোস্টার সাঁটানো যাবে না।
এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রকাশ্য মিছিল
বা শোভাযাত্রা করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান কিংবা ট্রেনসহ কোনো যানবাহন ব্যবহার করেও মিছিল বা শোডাউন আয়োজন করা যাবে না।
প্রচারণায় হেলিকপ্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে নতুন বিধিমালায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কোনো বিভ্রান্তিকর
বা মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থী
ও তাঁদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে এই বিধিমালায়।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডেরই বিধান রাখা হয়েছে নতুন এই বিধিমালায়।
ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নতুন এই আচরণবিধির মূল লক্ষ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ,
সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর এই বিধান আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন বয়ে আনবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।













