ট্রাম্পের কথায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া কমনো হবে

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ১৭, ২০২৬

ট্রাম্পের কথায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া কমনো হবে

সেতু মাহমুদ: ট্রাম্পের কথায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া কমনো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ( ১৬ আগস্ট) পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পরিকল্পিত যৌথ সামরিক মহড়া সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে

এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি অহেতুক শত্রুতাপূর্ণ বার্তা পাঠায়।

নিজের প্রেসিডেন্সির পুরো সময়ে উত্তর কোরিয়া তুলনামূলকভাবে শান্ত ও সংযত থেকেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। প্রথমত, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

দ্বিতীয়ত, মহড়া পরিচালনার উচ্চ ব্যয় নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। এছাড়া ইরান ইস্যুতেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে ।

তিনি জানান, সম্প্রতি সিউলকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর প্রচেষ্টায় যুক্ত হতে অনুরোধ করলেও দেশটি তাতে সাড়া দেয়নি।

ঘোষণাটি আসে ঠিক "উলচি ফ্রিডম শিল্ড" নামের বার্ষিক মহড়া শুরুর সময় থেকে।

এই মহড়ায় জটিল সামরিক পরিস্থিতিতে যৌথ অভিযান চালানোর কথা ছিল যার মধ্যে রয়েছে সরাসরি গোলাবর্ষণ অনুশীলন, নদী পারাপারের কৌশল এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুসারেই সোমবার মহড়া শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও জটিল করে তুলেছে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক কার্যকলাপ।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে দেশটি নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করেছে, আর এর আগে এই যৌথ মহড়াকে আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে তীব্র সমালোচনা করেছিল পিয়ংইয়ং।

স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সাবেক নৌ-পাইলট মার্ক কেলি এই সিদ্ধান্তকে কর্শী ও ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৯ সালে ট্রাম্প-কিম উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ভেঙে পড়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিয়ে আসছে, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনায় ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও বেশি ছাড় আদায় করা যায়।

তথ্যসূত্র: Associated Press News

-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক

আরো পড়ুন….. ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০