জয়শ্রী সরকার: এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মৃতি। এক মহানায়কের ৫১ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি চিরকাল এক গভীর বেদনার স্মৃতি বহন করে।
১৯৭৫ সালের এই দিনে ভোররাতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর একদল বিদ্রোহী সদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন।
ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারান।
এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়।
স্বাধীনতার পর তিনি নতুন রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর শাসনামল অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়
এবং ১৫ আগস্টকে সরকারিভাবে "জাতীয় শোক দিবস" হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়ে আসছিল।
তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিনটির সরকারি ছুটি ও জাতীয় শোক দিবসের মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়,
যা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত ও বিতর্ক এখনও অব্যাহত আছে।
আওয়ামী লীগ ও এর অনুসারীরা এখনও নিজস্ব উদ্যোগে দিনটি পালন করে থাকে, যদিও তা আর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত কর্মসূচি নয়।
পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১৫ আগস্টের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ
ও আলোচিত বিষয় হয়ে রয়ে গেছে যা দেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও জাতীয় পরিচয়ের জটিল আলোচনার একটি অংশ।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/জাতীয়













