সামাজিক মাধ্যম আবির্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু প্রাযুক্তিক দিক দিয়ে দক্ষ লোকজন এর সাথে জড়িত ছিল।
খুব সীমিত পর্যায়ের ব্যবহারকারী দিয়ে সামাজিক মাধ্যমের প্রচলন শুরু হয়।
পরবর্তীতে এর ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে তথ্য উপস্থাপনের পরিধি বাড়তে থাকে।
বর্তমানে এমন মানুষ খুঁজে পাওযা অসম্ভব যার ইন্টারনে বা সামাজিক মাধ্যম সর্ম্পেকে অভিগম্যতা নেই।
সামাজিক মাধ্যম হিসাবে অধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইস্টাগ্রাম, ইমো, স্কাইপির মতো আরো অনেক নেটওয়ার্কিং সাইট।
বর্তমান সময়ে ফেসবুক প্রোফাইল নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর ।
ইন্টারনেটের আগমনে পৃথিবীতে যে জগতের উন্মেষ ঘটেছে তা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে গতিশীল, তথ্যনির্ভর ও সমৃদ্ধ।
আর এই জগৎ এ প্রজন্মের তরুন-তরুনীদের যুক্ত করেছে এক অদৃশ্য সামাজিক ব্যবস্থার।
এই সামাজিক ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া ধারার নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
এটি একটি অতি সাম্প্রতিক কালের ধারণা এবং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফিফা বিশ্বকাপের লাইভ স্ট্রিমিং ⚡ রিয়েল-টাইম আপডেট
কিশোরদের জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব:
সারাবিশ্বর যখন সামাজিক মাধ্যমের জ্বরে কাঁপছে তখন বাংলাদেশের তরুন সমাজ
বা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এটা কিভাবে ব্যবহার করছেন তা জানার আগ্রহ থেকেই বর্তমান ফিচারটি লেখা।
বর্তমানে বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত সেটা জানার জন্য একটি পরিসংখ্যান পোর্টাল একটি জরিপ করে।
উক্ত জরিপে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২.১৪ বিলিয়ন।
২০১৬ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২.২৮ বিলিয়ন এবং ২০১৭ সালে এর সংখ্যা আরো বেড়ে ২.৪৬ বিলিয়নে দাঁড়ায়।

এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৩-১৭ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি অন্তত একটি সামাজিক যোগাযোগ প্রোফাইল রয়েছে।
তারা দিনে দুই ঘন্টার বেশি সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় করে।
স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বা কিশোর-কিশোরীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরিকৃত বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের সময়
যৌন উত্তেজনমূলক ম্যাসেজ, ছবি, ইমোজি, জিইফ, স্টিকারস্ অন্যদের তুলনায় বেশি ব্যবহার করে।
এখানে আরো দেখানো হয়, ১৩ মিলিয়ন কিশোর-কিশোরী প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে লগইন করে এবং ১৭ মিলিয়ন কিশোর-কিশোরী হোয়াস্টআপে লগইন করে থাকে।
গবেষণায় অংশগ্রহণ করা ২০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী স্বীকার করে যে তারা এমনটা করে থাকে ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটা ক্ষতিকর দিক হল কিশোর-কিশোরীদের কাছে পর্নোসাইট উন্মুক্ত হয়ে পড়া।
সহজেই তারা বয়স্কদের সাইটে ঢুকতে পারে যা তাদের অপরিপক্ব মানসিকতায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের এক সাংবাদিক সাঈদ সরকার তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে তরুণ ও কিশোর সমাজের।
শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কায়িক শ্রমের গুরুত্ব রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করার।
কিন্তু ফেসবুকের মায়ায় প্রায়ই আটকে পড়ছে তরুণ ও কিশোর সমাজ। লেখাপড়া, কোচিং, প্রাইভেট, টিভি দেখা ইত্যাদি কারণে সময় বের করা এমনিতেই সম্ভব হয় না।
তারপরও যেটুকু পাওয়া যায় তাও কেড়ে নিচ্ছে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
হাতে হাতে এখন আইফোন, স্মার্টফোন। যখন তাদের ভবিষ্যতে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখার কথা তখন তারা ভাবছে ফেসবুকে কত আকর্ষণীয় ছবি আপলোড করা যায়।
ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী Satindhar Kumar ২০১৫ সালে
“The Impacts of Social Media on Children” শীর্ষক গবেষণা করেন। ১০-১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণাটি করা হয়।
গবেষণায় দেখানো হয়, তারা দিনে প্রায় ১.৭২ ঘন্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করে।
এখানে আরোদেখানো হয়, ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশুনা বিষয়ক আলোচনার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। অন্যদিকে ৪১ শতাংশ শুধু সময় কাটানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এমন শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.০৬ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেনা এমন শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৮২।
বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়শ্রী রানী সরকার ২০২০ সালে
“ স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা ও প্রভাব” নামক এক গবেষণা করেন।
তার গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৪৫ শতাংশ কিশোর এবং ৬৪ শতাংশ কিশোরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা ম্যাসেজ পেয়ে থাকে।
এছাড়া, ৮৫ শতাংশ কিশোর ও ৭৬ শতাংশ কিশোরী বলছে তারা সামাজিক মাধ্যম দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছে।
সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রেটি সবাই এখন মেতেছে সামাজিক মাধ্যম নিয়ে।
ভার্চুয়াল জগতের উন্মুক্ত পরিসরে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য ফেসবুকের মতো সুলভ ও কার্যকর মাধ্যম হয় না।
সামাজিক মাধ্যম একটি চলমান প্রপঞ্চ।
বিশ্বের যেকোন প্রান্তের বড় কোন ঘটনা বা দুর্ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যম দ্বারা দ্রুত জানা যায়।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/জীবনযাপন













