ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুলাই ১৩, ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব

বিশেষ প্রতিবেদক: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা শুধু এই অঞ্চলের শান্তিকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বিশাল উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এই দ্বন্দ্বের প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি কোণায় অনুভূত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

আজকের আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কীভাবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর থেকে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে।

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যকে বলা হয় বিশ্বের জ্বালানি ভাণ্ডার। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সবচেয়ে প্রথম এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) বাজারে।

ক) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি:

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০% পরিবাহিত হয়। ইরান যদি এই রুটটি বন্ধ করে দেয় বা এখানে কোনো হামলা হয়, তবে তেলের দাম হুহু করে বেড়ে যাবে।

খ) মূল্যস্ফীতি:

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যায়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

গ) পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের সংকট:

তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে প্লাস্টিক, সার ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা শিল্প খাতকে স্থবির করতে পারে।

ঘ) জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর রিজার্ভে টান:

যেসব দেশ তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হবে,

যা ব্যালেন্স অফ পেমেন্টে ঘাটতি তৈরি করবে।

ঙ) বিকল্প জ্বালানি খাতের ওপর চাপ:

হুট করে তেলের বিকল্প হিসেবে কয়লা বা গ্যাসের ওপর চাপ বাড়লে সেই বাজারগুলোতেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেবে।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ও লজিস্টিকস সংকট

লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের আশপাশের এলাকায় অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য রুটগুলো মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে।

শিপিং কোম্পানিগুলো এখন আর ঝুঁকি নিয়ে সংক্ষিপ্ত রুট ব্যবহার করতে পারছে না।

তাদের আফ্রিকাকে প্রদক্ষিণ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট ১০টি প্রধান সংকট নিচে দেওয়া হলো:

জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেট কস্ট বৃদ্ধি:

দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেট কস্ট (Freight Cost) কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময়:

সংক্ষিপ্ত রুট পরিহার করায় পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় লাগছে,

যার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম বৃদ্ধি:

বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটে যাতায়াতকারী জাহাজের ঝুঁকি বিবেচনায় ‘ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম’ অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে।

কনটেইনার জট ও ঘাটতি:

জাহাজগুলো সঠিক সময়ে বন্দরে ফিরতে না পারায় প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতে খালি কনটেইনারের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

পচনশীল পণ্যের ক্ষতি:

দীর্ঘ সময় সাগরে আটকে থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্য এবং পচনশীল পণ্যের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিল্পের কাঁচামাল সংকট:

কারখানাগুলোতে সঠিক সময়ে কাঁচামাল না পৌঁছানোর ফলে বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরণের ধাক্কা খাচ্ছে।

বিমান কার্গোর ওপর অতিরিক্ত চাপ:

জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে আকাশপথ বেছে নেওয়ায় বিমান কার্গোর ভাড়াও আকাশচুম্বী হয়েছে।

পোর্ট ডেমারেজ চার্জ বৃদ্ধি:

পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং লজিস্টিকস অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পোর্ট ডেমারেজ বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

ই-কমার্স ও খুচরা বাজারের ওপর প্রভাব:

বৈশ্বিক বড় বড় ই-কমার্স জায়ান্ট ও ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় খুচরা বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে।

আঞ্চলিক বাণিজ্যে স্থবিরতা:

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক রুটগুলো পুরোপুরি অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের অর্থনীতি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগকারীদের ভয়

সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে

ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চরম মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করে।

এই ধরণের সংকটে ব্যবসায়িক ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত শেয়ার বাজার বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দ্রুত তাদের পুঁজি তুলে নেন।

তারা দীর্ঘমেয়াদে মূলধন সুরক্ষিত রাখতে নিরাপদ আশ্রয় বা 'Safe Haven' হিসেবে পরিচিত বৈশ্বিক সম্পদগুলোতে বিনিয়োগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ বোধ করেন।

বর্তমান বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ সরাসরি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ঐতিহ্যগত সম্পদ হিসেবে সোনার (Gold) চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে,

যার ফলে স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি, বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের মান অন্যান্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে ক্রমান্বয়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের এই রক্ষণাত্মক আচরণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য বা উৎপাদনশীল খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। যখন কোনো দেশের

বা বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় বড় উদ্যোক্তারা নতুন উদ্যোগে অর্থ খাটানো বন্ধ করে দেন, তখন তা সামগ্রিক কর্মসংস্থান হ্রাস করে

এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা (Global Recession) বা স্থবিরতার পথকে আরও সুগম করে তোলে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব

দূরবর্তী এই যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতেও সরাসরি আঘাত হানছে। এর ফলে সৃষ্ট ১০টি প্রধান প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:

ক) রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ওপর প্রভাব:

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় কোটির কাছাকাছি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়

এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেখানে কর্মরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়বে।

খ) আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ডলার সংকট:

বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এবং এলএনজি (LNG) আমদানি করতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের আমদানি ব্যয় বহুপুণ বেড়ে যাবে।

এটি দেশের ডলার সংকটের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে এবং টাকার মান অবমূল্যায়িত হবে।

গ) মূল্যস্ফীতির চাপ:

পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে চাল, ডাল, তেলসহ দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘ) তৈরি পোশাক (RMG) খাতে মন্দা:

ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি বাড়লে তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত ওএমজি (RMG) বড় ধরনের অর্ডার সংকটে পড়বে।

ঙ) রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিলম্ব:

লোহিত সাগরের সংকটের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পশ্চিমা দেশগুলোতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগবে, যা আমাদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে দেবে।

চ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট:

ডলার সংকটের কারণে সরকার যদি সঠিক সময়ে তেল ও গ্যাস আমদানি করতে না পারে, তবে দেশে লোডশেডিং এবং শিল্প কারখানায় গ্যাস সংকট তীব্র হবে।

ছ) সরকারের বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ:

বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে সরকারকে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে, যা দেশের উন্নয়ন বাজেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জ) বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) হ্রাস:

বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন।

ঝ) ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট:

ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিকারকদের এলসি (LC) খোলার অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার বা তারল্যের টান পড়তে পারে।

ঞ) কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা:

শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হলে এবং নতুন বিনিয়োগ না এলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে যাবে, যা বেকারত্ব বাড়াতে পারে।

এই সংকট উত্তরণে সম্ভাব্য করণীয়

যুদ্ধ কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, এর অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর জন্য কিছু পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

নিচে এই সংকট মোকাবিলায় ৮টি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ:

শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প দেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানির চুক্তি করা উচিত।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি:

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রাখতে হবে।

বিলাসবহুল আমদানি নিয়ন্ত্রণ:

দেশের ডলার রিজার্ভ ধরে রাখতে অপ্রয়োজনীয় এবং বিলাসবহুল পণ্যের আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা জরুরি।

দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি:

কৃষিপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে, যাতে বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমে।

রপ্তানি বাজারের সম্প্রসারণ:

শুধু ইউরোপ-আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল না থেকে এশিয়া এবং আফ্রিকার নতুন নতুন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে।

হুন্ডি প্রতিরোধ ও রেমিট্যান্স প্রণোদনা:

প্রবাসীরা যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধ উপায়ে টাকা পাঠান, সেজন্য রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা বাড়ানো এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ:

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং অপচয় রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

বিকল্প বাণিজ্য মুদ্রা ব্যবহার:

ডলারের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে অন্য কোনো শক্তিশালী আঞ্চলিক মুদ্রা

বা নিজস্ব কারেন্সি সোয়াপ (Currency Swap) ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া যেতে পারে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল পরীক্ষা।

তেলের বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের ভাঙন এবং মুদ্রাস্ফীতির এই শৃঙ্খল ভাঙতে বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশকেও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সঠিক পরিকল্পনা, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধের মাধ্যমেই কেবল এই ভূ-রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।

এই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ঠিক কেমন ক্ষতি হতে পারে?

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে কি বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়বে?

হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে।

সরকার যদি ভর্তুকি না বাড়ায়, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল।

এই যুদ্ধ কীভাবে সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলছে?

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং খরচ এবং জ্বালানির দাম বাড়ে। এর ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য

এবং দেশে উৎপাদিত সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

সংকটের সময়ে সোনার দাম কেন বাড়ে?

অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শেয়ার বাজার বা মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়।

সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ মনে করা হয়, তাই সবাই সোনা কিনতে ঝুঁকে পড়ে এবং এর চাহিদা বাড়ায় দামও বৃদ্ধি পায়।

হরমুজ প্রণালী কেন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালী হলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির প্রধান সামুদ্রিক রুট। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে।

এটি বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেবে।

বাংলাদেশ কীভাবে এই অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে পারে? 

বাংলাদেশকে মূলত অপচয় কমাতে হবে, অপ্রয়োজনীয় আমদানি সীমিত করতে হবে, রেমিট্যান্স আসার পথ সহজ করতে হবে

এবং অভ্যন্তরীণ কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/খেলাধুলা/অর্থনীতি

আরো পড়ুন.... ফিফা বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ কি আসলে লাভবান?